‘ভাই ফোন দিছে, ‘কথা শুনে চলে আসবো’: সকালে ফিরলো লাশ হয়ে

মুহা. সাজ্জাদ হোসেন, (মতলব উত্তর প্রতিনিধি): নিথর কাটা রক্তমাখা দেহ জড়িয়ে ধরে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা। মমতাময়ী মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস। কিন্তু ছেলে যে আর ফিরবে না।

মিজান ভাই ফোন দিছে, কথা শোনে চলে আসবো, স্ত্রী ইয়াছমিন ও ৯ বছরের এক সন্তানের কাছে এই বলে সেই যে গেলো। এরপর থেকে ওয়াসিমের নম্বর বন্ধ। সারা রাতেও ওয়াসিম ঘরে ফেরেনি।

সকালে বালু মিজানের ভাই আজাদ ওয়াসিমকে ডাকতে আসে। তারপর থেকে ওয়াসিমের খোঁজ শুরু হয়। মিজানের ঘরের পাশে মেঝেতে লেগে থাকা রক্ত পানি দিয়ে মুছতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়।

আশপাশে খোঁজ করে মিজানের ঘরের পাশে ওয়াপদা লেকের পানিতে লাশ দেখতে পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে ওয়াসিমের লাশ শনাক্ত করে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে গভীর রাতে ফোনে ডেকে নিয়ে ওয়াসিম নামের এক যুবককে পরিকল্পিত ভাবে মাথায় কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার আপন চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বেপারী ওরফে বালু মিজান।

সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত ১২টার পর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার শিকিরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্ত্রী ইয়াছমিন জানান, আমার বিয়ের পর থেকেই মিজানদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ দেখছি। তারা আমার স্বামী ওয়াসিমকে কয়েকবার মারধরও করেছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওয়াসিমের লাশ উদ্ধার করি। ওয়াসিমকে পরিকল্পিত ভাবে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর ওয়াপদা লেকের পানিতে ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী ইয়াছমিনকে বাদি করে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘাতকদের আটকের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এই ঘটনায় শোকের মাতম বইছে নিহতের এলাকায়। এর আগেও আসামীদের বালু বহনকারী ট্রাক চাপায় মারা যায় একই গ্রামের ইসমাইল, মফিজ সহ আরো একজন রিক্সাচালক। বারবারই তারা পার পেয়ে গেছে মিজান গংরা। তাই এই ঘটনার সুষ্টু বিচার ও আসামীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।