ভাতা বিতরণে অনিয়ম রোধে নির্বাহী কর্মকর্তার নতুন উদ্দ্যেগ

রায়পুর লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বামনী ইউনিয়নে মঙ্গলবার দুপুরে সরকার কর্তৃক ঘোষিত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা,প্রাপ্তদের মধ্যে হতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যাচাই বাচাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়াম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যন তাফাজ্জল হোসেন মুন্সি, ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা প্রমুখ। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকা নিয়ে অনিয়ম-দুর্ণীতি আর স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এসব ভাতার সুবিধাভোগী নির্বাচনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম থাকলেও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হতো না। তবে, গেল কিছু দিন ধরে নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে উন্মুক্ত পদ্ধতি যেখানে আবেদন সেখানেই যাচাই-বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এতে নেতৃীত্ব দিচ্ছেন সরেজমিনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী নিজে। এতে করে স্থানীয়রা মনে করে অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। অসহায় মানুষ সঠিক নিয়মে ভাতা পাবে।
নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, রায়পুর উপজেলায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অতিরিক্ত বরাদ্দপ্রাপ্ত ২ হাজার ৬২১ জন বয়স্ক, বিধবা ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে নির্বাচনের এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ইউএনও।

পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে দায়িত্ব না দিয়ে এই প্রথম আগে থেকে প্রচার করে নির্দিষ্ট স্থানে সমাবেশ ডেকে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, দলীয় নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করে তাদের বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়। ইতিমধ্যে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন আর ১টি পৌরসভার মধ্যে চারটি ইউনিয়নে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে এভাবে ২ হাজার জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলার ৭ নং বামনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মুন্সি বলেন, আগে যে প্রক্রিয়া ছিল তাতে অনেক অনিয়ম হতো, এতে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররাও অনিয়ম করতো। কিন্তু, এখন যে প্রক্রিয়া তা খুবই স্বচ্ছ।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পৃথক কমিটি রয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে ভাতা প্রদানে নিয়োজিত দুই কমিটিই জনগণের কাছে যাবে এবং সবার উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে যাচাই-বাছাই করবে। তাই প্রথমে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী নির্বাচনের তারিখ, সময় ও স্থান।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, নতুন এই নিয়মে যারা ভাতা নিতে ইচ্ছুক তাদের সবাইকে লাইনে এসে দাঁড়াতে হচ্ছে। আর যখন কার্ড করানোর জন্য লাইনে এসে দাঁড়াচ্ছেন তখন অন্যরা বলে দিচ্ছেন কে গরিব বা কে কার্ড পাওয়ার যোগ্য না। এমনকি লাইনে দাঁড়ানোর ফলে অন্য ব্যক্তিরা জানিয়ে দিচ্ছেন তার অর্থনৈতিক অবস্থা। এতে, দুর্নীতি বন্ধ এবং স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হয়েছে।