ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী’র নির্যাতনে আবারও নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে এক বাংলাদেশী নিহত

রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি : নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর নির্যাতনে আব্দুল বারী (৪৫) নামের এক বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে সাপাহার আদাতলা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল বারী উপজেলার দক্ষিন পাতাড়ি গ্রামের আবু বক্কর এর ছেলে সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত্রে আব্দুল বারীসহ একদল বাংলাদেশী পূর্নভা নদীর আদাতলা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এসময় বিএসএফের সদস্যরা বুঝতে পেরে তাদের তাড়া করে। তারা পালিয়ে আসতে পারলেও আব্দুল বারীকে আটক করে নির্যাতন করে।

পরে তাকে পুর্নভা নদীর তীরে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে বাংলাদেশের সীমানায় ফেলে দেয় বিএসএফরা। বুধবার (১৭ জুন) ভোরে নিহতের লাশ তারকাটার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা সাপাহার থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়।

এ ব্যাপারে বিজিবি-১৬ আদাতলা ক্যাম্পের সুবেদার আব্দুল হান্নান বলেন, একদল বাংলাদেশী ভারতে প্রবেশের জন্য পূর্নভা নদীর কিনারে অপেক্ষা করছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়ে মারে। এসময় তারা বেগতিক দেখে গুরুতর অস্থায় পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, তারা বিজিবির তালিকা ভুক্ত বাংলাদেশী। দীর্ঘদিন তারা পালিয়ে থাকায় আটক করা সম্ভব হচ্ছিলনা।

এ বিষয়ে সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮ টার দিকে নিহতের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত দুইদিন পুর্বেই সোমবার (১৫ জুন) নওগাঁর পোরশা উপজেলার নীতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)’র আগ্রাবাদ ক্যাম্পের সদস্যদের ছোড়া গুলিতে সুভাস রায় (৩৭), নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী যে কোন প্রকার অজুহাতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর সিমান্ত এরিয়াতে অত্যাচারসহ একের পর এক হত্যা করেই চলেছে।