ভ্রমণ পিয়াসীদের পদচারণায় ৫ মাস পরে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহীর চিড়িয়াখানা ও পদ্মাপাড়

রুহুল আমীন খন্দকার: বিশেষ প্রতিনিধি: প্রায় ০৫ মাস পরে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার তালা খুলেছে। শনিবার (০১ আগস্ট) ২০২০ ইং পবিত্র ঈদুল আজহার দিন থেকে শিশুদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্রটি। তবে সেখানে ঢুকতে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই।

চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে গত মার্চে রাজশাহীর সব পার্ক-চিড়িয়াখানা বন্ধের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ঈদুল আজহার দিন শুধু কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা খোলা হয়েছে। এরপর থেকে সেখানে ঢোকা যাচ্ছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন প্রায় ৭’শো শিশু ও তাদের অভিভাবক চিড়িয়াখানায় এসেছেন। ঈদের পর দিন এসেছে প্রায় ২ হাজার শিশু ও তাদের অভিভাবক। ঈদের তৃতীয় সোমবারেও শিশুদের আনাগোনা ছিল বেশি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই চিড়িয়াখানায় বিনোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাস্ক না পরলে কাউকেই চিড়িয়াখানার ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

ঈদের তৃতীয় দিন বিকালে চিড়িয়াখানায় শিশুকে নিয়ে ঘুরতে আসা এক অবিভাবক বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে গৃহবন্দী থাকতে থাকতে তার সন্তানরা বিরক্ত জয়ে পড়েছে। চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকলেও তারা মাঝে মাঝেই এখানে আসতে চাইত। কিন্তু আসা যেত না, ঈদের দিন তারা আবারও বায়না ধরে। কিন্তু সেদিন কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেননি তাই তৃতীয় দিন এসেছেন।

আরেক জন অবিভাবক বলেন, প্রায় ০৫ মাস পর চিড়িয়াখানায় দুই সন্তানকে নিয়ে এসে তার ভাল লাগছে। আগের চেয়ে চিড়িয়াখানা বেশি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। সবচেয়ে ভাল লাগছে নতুন করে সংস্কার করা পুকুরটি। নতুন পানি দিয়ে পুকুরে রঙিন মাছ ছাড়া হয়েছে। বড় বড় রুই-কাতলও আছে। বাদাম ছুড়ে দিলেই মাছগুলো কাছে আসছে। এটা শিশুরা খুব বেশি উপভোগ করছে। পাশাপাশি নানা রকম পশু-পাখি আর রাইড তো আছেই। এত দিন পর এসব পেয়ে তার শিশুরা খুব খুশি ও আনন্দিত।

এ ব্যাপারে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সুপারভাইজার মো. শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, রাজশাহীর শিশু পার্ক এখনও বন্ধ। তাই তাদের এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হচ্ছে। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি তারা খুব খেয়াল করছেন। প্রবেশের সময়ই সবাইকে জীবাণুনাশক টানেলের ভেতর দিয়ে আসতে হচ্ছে। আর সবাই যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন তার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে ঈদের দিন থেকে রাজশাহীর বিস্তির্ণ পদ্মার পাড়েও নানা বয়সী মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। ঈদের দিন এবং দ্বিতীয় দিন বিনোদন পিপাসু মানুষের ভিড় ছিল বেশি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর ধারে ভিড় জমাচ্ছেন বিনোদন পিপাসুরা। ভরা পদ্মায় এখন আছড়ে পড়ছে ঢেউ। পড়ন্ত বিকালে নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে সূর্য। এমন অপার সৌন্দর্যের টানেই বিনোদন প্রেমিরা যাচ্ছেন পদ্মারপাড়ে।

রাজশাহী মহানগরীর পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে পদ্মার পাড়। ঈদের দিন থেকে এলাকাগুলো সব সময় মুখরিত থাকছে বিনোদন প্রেমীদের পদচারণায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের ভালোলাগার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এলাকাগুলো। করোনার থাবা দূর করে পদ্মার পাড়ে এখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও এখন জমজমাট। মাঝিদের নৌকাতেও মিলছে যাত্রী। নৌকাগুলো ভাসছে ভরা পদ্মায়। অনেকেই পদ্মাপাড়ের লালন শাহ মঞ্চের গ্যালারিতে বসে উপভোগ করছেন পদ্মার সৌন্দর্য্য।

নগরীর শিরোইল এলাকার আসরাফুল আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে তিনিও বাসা থেকে বের হননি। ঈদে বন্ধুরা বেড়ানোর কথা বললে আর না করেননি। সবার সঙ্গে পদ্মাপাড়ে এসেছেন। নৌকায় ঘুরেছেন। তানিয়া বলেন, এখানে বেড়াতে আসার পর যেন ঈদ পূর্ণতা পেল!

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল গণমাধ্যম কর্মীদের জানাম, রাজশাহীতে মুক্ত বাতাসে একটু শ্বাস নেয়ার জন্য পদ্মাপাড়ের তুলনা নেই। লকডাউন শিথিল করার পর থেকেই পদ্মাপাড়ে বিনোদন পিপাসুদের আনাগোনা বেড়েছে। ঈদের পর সেটা আরেকটু বেড়েছে। আমরা বলছি, সামাজিক দূরত্বটা যেন বজায় থাকে। সেটা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতও মাঠে রয়েছে, তারা সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং এ রয়েছে।