মতলবে করোনাক্রান্ত অবহেলিত মৃত লাশটির দাফন করলো ‘ইসলামী আন্দোলন’

মাহফুজুর রহমান: নিস্তব্ধ দেহ পড়ে আছে খাটে। পাশে নেই কোন আত্নীয়-স্বজন, নেই প্রিয় স্ত্রী কিংবা ছেলে-মেয়ে। যাদের জন্য এত কস্ট করে পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করে তারা কেউ-ই কাছে আসা তো দূরের কথা সেই ঘরটিতেও নেই।

কারণ মৃত ব্যক্তির ব্যক্তির করোনা পজেটিভ এসেছে। তাই হয়তো লাশের গোসলের জন্য নেই বড়ই পাতা দিয়ে গরম পানি। ওদিকে মসজিদের খাটিয়াটাও দিতে চলছিলো গড়িমসি। গোসল দেয়ার জন্য নেই কোন চাদর। আবৃত জায়গায় ঘরের পুরাতন চাদরগুলো দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।

যেই ঘরে লাশটি রয়েছে সেই ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আশেপাশে যতগুলো ঘর রয়েছে সেগুলোরও দরজা-জানালা বন্ধ। ভয় শুধু একটাই যদি আমারও হয়; তাই এই লাশের কাছে কোনভাবেই যাওয়া যাবে না। তাই কেউ শেষ মাটিটুকুও দিতে আসেনি, আসেনি শেষ দেখা দেখতেও।

আফসোস,একটু মানবতাও আজ নেই! এতো আপনজন, এতো প্রিয়জন। সব যেনো আজ করোনার কাছে হার মেনে গেলো।

শফিকুল সরকারের ছেলে ওমর ফারুক। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পল্লী বিদ্যুতে-এ চাকরি করতেন। ২২ মে করোনা উপসর্গে নমুনা দিলে পরেরদিন তার নমুনা রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। ২৪ মে (জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট) নিয়েই গোপনে তিনি গ্রামের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বরুকান্দি আসেন। পরে মঙ্গলবার (২৬ মে) তিনি মারা যান।

মৃত ব্যক্তির স্ত্রী-সন্তানদের শান্তনা বা সহমর্মিতা না দেখিয়ে এলাকার কেউ কেউ বিভিন্ন কটু কথা বলেছেন। এতে করে পরিবারটি আরো বেশি হতাশা ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ঠিক এমন তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ মে (বুধবার) করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে ছুটে যান চরমোনাই পীর সাহেবের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর একটি টিম।

মতলব উত্তর উপজেলা সেচ্ছাসেবক টিমের মহামানবিক উদ্যোগে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে করোনাক্রান্ত লাশটি ঘর থেকে বের করা থেকে শুরু করে গোসল-কাফন এবং দাফনের এর কাজ সম্পন্ন করে টিমের সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তির পরিবারের লোকজন, নিকট আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশসহ এলাকার লোকজন সংক্রমনের ভয়ে যখন দাফন-কাপন থেকে দূরে থাকেন। এবং ‘কেউ এলোনা, জানাযা পড়ালেন ইউএনও, দাফনে পুলিশ’ এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। ঠিক তখনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে, মৃত্যুর ভয়কে জয় করার লক্ষ্যে মতলব উত্তরে এগিয়ে এলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম (কমিটি)’র নেতৃবৃন্দ জানান, ‘মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির ও পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নির্দেশে করোনা ভাইরাসে নিহত মুসলিম ভাই-বোনের মৃতদেহ দাফনে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট এই টিম (কমিটি) গঠণ করা হয়।

তারা জানান, ‘মতলব উত্তর উপজেলায় যদি কেউ করোনা ভাইরাসে মারা যায়, তাহলে তার দাফন-কাপনে আমাদের টিমের যে কাউকে ফোন দিলেই আমরা তাৎক্ষনিক সাড়া দিবো’।