মতলব উত্তরে দক্ষিণ বোরচরে মেঘনা গুচ্ছগ্রাম নির্মাণে সীমাহীন দুর্নীতি

মুহা, সাজ্জাদ হোসেন: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৮ নং এখলাছপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বোরচরে ছিন্নমূল মানুষের নামে মেঘনা গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মেঘনা গুচ্চগ্রামটি নির্মানাধীন সময়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারী ও সঠিক তদারকী না করার কারনে দুনীতির মাধ্যমে সরকারী টাকা আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান ৷

মেঘনা গুচ্চগ্রামে বসবাসরত ডিজে হারুন ও রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, আমরা এই মেঘনা গুচ্ছগ্রামে নানা সমস্যায় জড়জড়িত হয়ে বসবাস করছি ৷ তারা বলেন সামান্য বৃস্টিহলেই ঘরের ভিতরে পানি পড়ে ৷ টয়লেটে ৫টি চাক এবং ট্যাংকি দিয়ে টয়লেট নির্মাণ করার কথে সেখানে মাত্র ২টি চাক দিয়ে টয়লেট নির্মাণ করার কারনে অল্প কিছুদিন টয়লেট ব্যবহার করার কারনে টয়লেটগুলো ময়লায় পূর্ণহয়ে ময়লা বের হচ্চে এবং ১০/ ১২টি টয়লেটের চাক ও স্লাফ না থাকায় ঐ পরিবারগুলো নিজেদের টয়লেট ব্যবহার করতে না পেরে অন্য লোকের টয়লেট ব্যবহার করছে তারা ৷

তারা আরো জানান, আমাদেরকে নানান ধরনের সুযোগ- সুবীধার কথা বলে আমাদেরকে এই গুচ্চগ্রামে আনা হয়েছে আবার আমাদের কাছ থেকে এই এলাকার মাতাব্বররা টাকাও নিয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সরকারের কাছ থেকে কোন ধরনের সাহায্য পাইনাই ৷

আমরা এখানে নানান ধরনের সমস্যায় আছি আমাদের দেখারকি কেউ নাই?
তারা আরোও বলেন- আমরাও মানুষ আমরাও সমাজে ভালভাবে বাচাঁতে চাই কারন আমাদের ছেলে- মেয়ে রয়েছে তাদেরকে সু -শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চাই আমাদের সুন্দর পরিবেষ ও সরকারের সাহায্য ৷

স্থানীয় জনসাধারণসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বোরচরে খাস জমির উপর মেঘনা গুচ্ছ গ্রাম নামে প্রকল্পে প্রথমে ৫০টি টিনের ঘর নির্মাণ এবং পরে আরো ২০ টি ঘর সহ মোট ৭০ টি ঘর নির্মাণ করে বিল উত্তোলন করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৷

স্থানীয়রা জানান, মেঘনা গুচ্ছগ্রামের প্রতিটি ঘরের জন্য ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ থাকা সত্তেও ঠিকাদার প্রতিসষ্ঠান যেভাবে ঘর নির্মাণ করেছে তাতে ১ লক্ষ টাকার কম খকছ করেছে ৷

তারা আরো জানান, নিন্মমানের সামগ্রি দিয়ে গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো নির্মাণ কাজ করার কারনে বেশি দিন এই ঘরে বসবাস করা যাবেনা ৷ নিন্মমানের টিন,লোহার এ্যংগেল, সিমেন্টের পালা সহ ঘরে ব্যবহ্রত সমস্ত সামগ্রীই নিন্মমানের ৷ প্রতিটি ঘরের সাথে ১টি করে টয়লেট ৫টি চাক দিয়ে নির্মাণ করার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ২টি চাক দিয়ে টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে ৷

গুচ্ছগ্রামের বাসীন্দারা আরো জানান আমাদেরকে যে ঘর দেওয়া হয়েছে কোন ঘরের ভিটিতে মাটি ছিলনা আমরা নিজেরাই ঘরে মাটি ফালিয়ে ঘরের ভিটি উচু করে বসবাস করছি ৷ যে টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে তা অল্প কিছুদিন ব্যবহার করারপর টয়লেট থেকে ময়লা বের হয়ে আসবে যার কারনে পরিবেষ দুষন হবে এবং তা থেকে বিভিন্ন রোগবালাই ছডৃানোর সম্ভাবনা রয়েছে ৷ এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য এখন থেকেই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ৷

গুচ্ছগ্রামে ৭০ টি পরিবারের জন্য মাত্র ২টি চাবকল থাকায় দীর্ঘসময় লাইনধরে থেকে চাবকলের পানি সংগ্রহ করতে হয় বলে তারা জানান ৷ তারা আরো জানান, গুচ্ছগ্রামে ১টি অফিস , ১টি মসজিদ হওয়ার কথা তাও করা হয়নি ৷

বর্তমানে মিজান নামে এক ব্যাক্তির নামে বরাদ্ধ হওয়া( এ ৪৯) নং ঘরটি টি মসজিদ হিসেবে এবং মোঃ সফিউল্লাহ এর নামে বরাদ্ধা হওয়া (এ ২ ) ঘরটি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কারী মোঃ সফিউল্লাহ বিনাবেতনে সকালে ও বিকেলে প্রায় ৪০/ ৫০জন বাচ্চাদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ও কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন । এখানে বিনা পরিশ্রমিকে স্বেচ্ছায় কারী সাহেব শিশুদের নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে থাকেন ।

আমরা গুচ্ছগ্রামবাসীরা যাতে সমাজে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করে আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে ঘডৃেতুলতে পারি এবং আমাদের এই সমাজটা যাতে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি আধুনিক গুচ্ছগ্রাম ও সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এব্যাপারে আমাদের গুচ্ছগ্রাম বাসীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি ৷

মেঘনা গুচ্ছগ্রাম নির্মাণে নিম্নমানের সমগ্রী দিয়ে কাজ করা হয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, এ ধরনের যদি কিছু হয়ে থাকে তা অবশ্যই অন্যায়। আমি গুচ্চগ্রামের ডিজাইন দেখব এবং সরকারী নিয়ম মাফিক কাজ হয়েছে কিনা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব ৷

সরকারের এমন প্রকল্পের অনিয়ম দুর্নীতিতে স্থানীয় জন সাধারণ চরমভাবে ক্ষুব্দ। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেছেন।