মাধবপুরে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ বাগান

অলক রায়,  মাধবপুর (হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ গ্রাম বাংলার বাঁশ বাগান দেখেই যতিন্দ্র মোহন বাগচী তার কাজলা দিদির কবিতায় লিখেছেন বাঁশ বাগানের মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে ঐ। মাগো আমার শোলক বেলা কাজলা দিদি কই কবির বাঁশ বাগান গুলো এখন শুধুই স্মৃতি। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঁশ বাগান। আগে মাধবপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে আনাচে-কানাচে প্রচুর বাঁশ বাগান দেখা যেত কিন্তু এখন আর মাধবপুর।

এলাকার সেই চিরচেনা চিত্র এখন আর চোখে পড়ে না। দিনবদলের সাথে সাথেই গ্রাম বাংলার চিত্র গুলোও বদলে যাচ্ছে। সে সময় গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি গবাদী পশুর বাসস্থান, নদী পারাপারের সাঁকো তৈরী ছাড়াও গৃহস্থালীর নানা কাজে বাঁশের তৈরী বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করত। বর্তমানে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে মানুষের চিন্তা ধারারও আমূল পরিবর্তন এসেছে মানুষ এখন।
প্রয়োজনের তাগিদেই নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্থ হচ্ছে। বাঁশ দিয়ে ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হবে এমন পরিকল্পনা এখন করতে পারছেন না গ্রাম বাংলার মানুষ। সময় ও সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথেই বাঁশের জায়গা দখল করছে ই্ট পাথর সহ রড সিমেন্টের  খুঁটি রড সিমেন্টের ও ইট পাথরের মূল্য বেশী হওয়ায়।

সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি এবং অধিক টেকসই নিরাপত্তার কারণে মানুষ ঘরবাড়ি নির্মাণে আর বাঁশের ব্যবহার তেমন করছে না। ফলে ওইসব কাজে বাশেঁর গুরুত্ব মানুষের কাছে আগের মত না থাকলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠির কাছে বাঁশের কদর একেবারে কমে যায়নি। নিজস্ব প্রয়োজনে মানুষ আগে বাঁশ চাষে আগ্রহী ছিল এক সময় মাধবপুর উপজেলার।
বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতি কৃষকের বসতভিটার কোন না কোন জায়গায় বাঁশ বাগান ছিল। কিন্তু এখন নেই বললেই চলে কয়েক বছর আগেও মাধবপুর অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার আনাচে কানাচে বড় বড় বাঁশ বাগান দেখা গেছে। ওই বাঁশ বাগান ছিল ঘন, বাঁশগুলো ছিল লম্বা দেখে মনে হতো যেন বাঁশের বন বাগান বাঁশ বাগান গুলো উজার হলেও।

পরিবেশের প্রয়োজনে নতুন করে বাঁশ বাগান সৃষ্টিতে বন বিভাগ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা এখন পূর্ণাঙ্গ বাঁশ বাগানে রূপ নিচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে প্রাকৃতিক ও পরিবেশের প্রয়োজনে বাঁশ চাষ অত্যন্ত জরুরী আর উজার হওয়া জায়গাগুলো পরিণত হচ্ছে কৃষি জমি বা বসতবাড়িতে।