মুজিববর্ষের মূলমন্ত্র কমিউনিটি পুলিশিং সর্বত্র’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তানোরে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ পালিত


রুহুল আমীন খন্দকার: বিশেষ প্রতিনিধি: মুজিববর্ষের অঙ্গিকার পুলিশ হবে জনতার এবং ‘মুজিববর্ষের মূলমন্ত্র কমিউনিটি পুলিশিং সর্বত্র’ এই শ্লোগানে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর তানোর থানার উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং ডে/২০২০ পালিত হয়েছে। শনিবার (৩১শে অক্টোবর) ২০২০ ইং বেলা ১১টায় আলোচনা সভাটি তানোর থানাধীন তানোর পৌরসভার তালন্দ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনু্ষ্ঠিত হয়। 
কমিউনিটি পুলিশিং ডে/২০২০ এর আলোচনা সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন, তানোর থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাবিবুল হাসান। সভায় প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী। 


এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, গোলাগাদী সার্কেল, প্রদীপ কুমার মজুমদার সভাপতি থানা, কমিউনিটি  পুলিশিং কমিটি, এ্যাডঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা সাধারন সম্পাদক, থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি, গোলাম মোস্তফা সদস্য জেলা পরিষদ রাজশাহী উপস্থিত ছিলেন। 
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি, বিশেষ অথিতিসহ বক্তব্য প্রদান করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আঃ রাজ্জাক মাষ্টার, মোঃ শরীফ খাঁন সাবেক সহ-সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগ, মোঃ খাদেমুন্নবী বাবু চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানোর উপজেলা আওয়ামীলীগ। এছাড়াও অন্যানদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ আবুল বাশার সুজন, এসআই (নিঃ) মোঃ এখলাছুর রহমান, এসআই (নিঃ) মোঃ ছাইফুল ইসলাম, এসআই (নিঃ) মোঃ ইয়াছির আরাফাত, নারী এএসআই (নিঃ) মোছাঃ শবনম মোস্তারী। 


আলোচনা সভাটির সঞ্চালনায় ছিলেন, এসআই (নিঃ) মোঃ আনিছুর রহমান, তানোর থানা, রাজশাহী। কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ সভায় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, শিক্ষক, ঈমাম ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে এ ব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাকিবুল হাসানের সাথে কথা বল্লে তিনি এই গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এর জন্মশতবার্ষিকীতে “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” এই শ্লোগানটি নিয়ে করোনার সংকটময় সময়ে যেভাবে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করেছে, তা অবিশ্বানীয় ও অতুলনীয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় দেশের অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। 


ওসি বলেন, কমিউনিটি অর্থ হচ্ছে সংযোগ। আর কমিউনিটি পুলিশ জনগণের সাথে সেই সংযোগ তৈরি করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কমিউনিটি পুলিশে বেশি জোর দিয়েছেন। কারণ দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য সংখ্যা কম। যার কারণে অনেক স্থানে পুলিশ সঠিক সময় অপরাধ থামাতে পারে না। যার জন্য জনগণের সাথে এই কমিউনিটি পুলিশ গঠন করা হয়েছে। যাতে জনগণ নতুন নতুন এলাকার অপরাধগুলি দমন করতে পারে। পাশাপাশি পুলিশের সহযোগীতা করতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশের একটি নিতি নিয়ে চলে তা হচ্ছে “পুলিশই জনতা, জনতই পুলিশ”। অপরাধ দমনে আমরা যদি পুলিশের সহযোগীতা করতে না পারি তাহলে চুরি, ছিনতাই, খুন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ বেশি বেশি বেড়ে যাবে। 


ওসি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, শিশু ও নারী পাচার এবং নির্যাতন রোধ, বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং প্রতিরোধে সারাদেশে পুলিশের বিট কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশং ফোরাম একই লক্ষে কাজ করছে। আমাদের তানোর থানা এরিয়ায় ৯টি বিট পুলিশিং কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যাবস্থা হচ্ছে অপরাধ সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার একটি নতুন পুলিশিং দর্শন। আমাদের দেশে পুলিশী কর্মকান্ডে জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ধারণা গ্রহণ করা হয়েছে।