ময়মনসিংহ ভালুকায় এক ইউনিয়ন যুবলীগ নেতার কান্ড

ভালুকা(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি: ভালুকায় উথুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক পরিচয় ধারী সায়মন কবির নামের এক ব্যক্তি এলাকাতে বিভিন্ন কু-কর্মে মাধ্যমে তান্ডব চালানোর কান্ড ঘটিয়ে যাওয়ার অভিযোগে উঠেছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান,এলাকাবাসী, ও আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা যায় দলের পরিচয় দিয়ে এলাকায় একের পর এক অনিয়ম করে জনহয়রানী করে বেড়াছেন এই যুবলীগ সায়মন কবির।
আওয়ামীলীগ নেতাদেরকেউ পাত্তা ছিচ্ছেন না এই যুবলীগ নেতা। বিদেশে লোক পাঠানোর দালালি, জমি দালালি, ৫ দিনে পাসপোর্ট ও ভিসা করে দিয়ে সব রাষ্ট্রে লোক পাঠানো হয় বলে অসহায় মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

সায়মন কবির উথুরা ইউনিয়নে কয়েকটি স্থানে সাইন বোর্ড টানিয়ে মানুষকে প্রতারণা ফাঁদে ফালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।এ নিয়ে চামিয়াদী বাজারের বর্ণিক সমিতি প্রতিবাদ করলে রাতা-রাতি উপজেলা সমবায় অফিসকে টু-প্রাইজ বিনিময় করে নিজেই চামিয়াদী বাজারে বহিরাগত লোক দিয়ে আরেকটি বর্ণিক সমিতির নাম করণ করে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আবেদন করেন। সমাজ সেবা অফিস টু-প্রাইজ খেয়ে কোন প্রকার তদন্ত না করেই আবেদন করা কাগজ পত্র সঠিক প্রত্যয়ন করে ময়মনসিংহ জেলা সমাজ সেবা অফিসে ফাইল স্বাক্ষরেরর জন্য প্রেরণ করেন।

বিষয়টি জানা-জানি হলে বর্ণিক সমিতির পক্ষ থেকে জেলা অফিসে গিয়ে অভিযোগ করা হয়। পরে জেলা অফিস উপজেলা সমাজ সেবা অফিসকে আবারো সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলে, টু-প্রাইজ খাওয়া সমাজসেবা অফিসের দায়িত্ব প্রাপ্তরা ব্যক্তিরা অপ-কর্মের গা-ঢাকা দেওয়ার জন্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে তদন্তে আসেন। তদন্ত কালে চামিয়াদী বাজারের সকল সদস্য একত্রিত হন।

পরে সকলের সিদ্ধান্তে ৪বছর আগে থেকে প্রতিষ্ঠা করা বর্ণিক সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে বসে আলোচনা করার জন্য সম্মতি প্রকাশ করলে, বর্ণিক সমিতির সকল লোকজন উপস্থিত হন। সমাজসেবা অফিসের তদন্ত করতে আসা ব্যক্তিদের সামনে প্রস্তাবিত নকল নামে নতুন বর্ণিক সমিতির কমিটি করে রেজিস্ট্রেশন করার আবেদন করায়,

এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্তৃক সত্যায়িত করায়, সকল ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদের ক্ষোভে বড় ধরনের অঘটন ঘটার কারণ হতে চলছিল প্রাণনাশের মত ঘটনা। সায়মন কবিরের অপকর্মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৪বছর আগে চামিয়াদী বাজারে ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠিত করা বর্ণিক সমিতি এই সমিতি আজ হুমকির মুখে পরেছে। তদন্ত কালে টু-প্রাইজ খাওয়া সমাজ সেবা অফিসার চামিয়াদী বাজারের বর্ণিক সমিতির সকল কাগজ পত্র দেখে নিরব হয়ে যায়।

এই ঘটনার খবর পেয়ে আলোচনা উপস্থিত হন উথুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বজলুর রহমান তালুকদার,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শামসুল হক চৌধুরী, সাধারণ সস্পাদক-বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকবর আলী,সমাজ সেবা অফিসার মুন্তুস কুমার ও টু-প্রাইজ খাওয়া তদন্ত অফিসার মুন্জুরুল হক।তাদের উপস্থিতিতে বাজারের সকল ব্যবসায়ীরা সায়মন কবিরের ভূয়া কমিটি বলে জানিয়ে দেন। উপস্থিত চেয়ারম্যান তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চামিয়াদী বাজারে বর্ণিকদের একটি মাত্র কমিটি আর এই কমিটির বর্তমান সভাপতি আরিফ ছিদ্দিকী মিন্জু। আমার জানা মতে এই কমিটিই বাজারে ব্যবসায়ীদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করছেন। এই কমিটিকে আমার পরিষদ থেকে একাধিকবার ষ্ট্যাড লাইসেন্স নিয়েছে ।

এর পরে যদি কেউ আরেকটি কমিটি আমার ষ্ট্যাড লাইসেন্স জাল করে ভূয়া কমিটি বানিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য যদি কোথাও দিয়ে থাকে তাহলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাচ্ছি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,৬নং চামিয়াদী ওয়ার্ডের সাবেক ও বর্তমান মেম্বার, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক -বর্তমান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা। আলোচনায় আরিফ ছিদ্দিকী মিন্জুর কমিটি বৈধ আর সায়মন কবিরের কমিটিকে ভূয়া কমিটি বলে সকলেই মত প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সায়মন কবিরের কাছে জানতে চাইলে কিছু বলতে অসম্মতি দিয়েছেন এবং বলেন, আপনাদের যা তথ্যের প্রয়োজন অফিসে গিয়ে জেনে নিবেন। বিদেশে লোক পাঠানোর বিষয়ে জিজ্ঞেসা করলে তিনি সাফ বলে ফেলেন আমি আপনাদের কোন তথ্য দিতে রাজী নয়।