যান্ত্রিক আনুগত্যের প্রথা ভেঙে নতুন সংগঠনের আত্নপ্রকাশ;সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ভেঙে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল’ গঠন

https://www.bdcurrentnews24.com/wp-content/uploads/2022/07/ad-1.jpg

ঢাবি প্রতিনিধিঃ সংগঠনের ‘যান্ত্রিক আনুগত্যের’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ‘সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ’ কে দার্শনিক ভিত্তি করে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট থেকে পৃথক হয়ে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল’ নামে নতুন একটি একটি সংগঠনের আত্নপ্রকাশ ঘটেছে।

আজ দুপুরে (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে আরিফ মঈনুদ্দিনকে সভাপতি এবং উজ্জ্বল বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০ সদস্যদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের উদ্যোক্তারা।

এর আগে আরিফ মঈনুদ্দিন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বাসদ(মার্কসবাদী)সমর্থিত ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আর উজ্জ্বল বিশ্বাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নতুন নামে আত্মপ্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের তাজ নাহার (ছাত্র ফ্রন্টের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক)। বক্তব্যে বলা হয়, ‘সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি জোটবদ্ধ ও এককভাবে শিক্ষা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে আপসহীন সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সংগঠনের অভ্যন্তরে আদর্শিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুতর মতপার্থক্যের কারণে ছাত্র ফ্রন্ট এখন তিন ধারায় বিভক্ত। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নামে এখন তিনটি সংগঠন কাজ করছে।

এ অবস্থায় সংগঠনের নাম নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটানো এবং নিজেদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক পরিচয় মূর্ত করে তোলার লক্ষ্যে আমরা নতুন নামে ছাত্রসমাজের সামনে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুরোনো নামের সঙ্গে অনেক স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে থাকলেও সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্যই আমাদের কাছে প্রধান। লক্ষ্য অভিমুখী সংগ্রামে অবিচল থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের সংগঠনের নতুন নাম গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল। এটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীন বিমূর্ত আদর্শের কোনো ছাত্রসংগঠন নয়।

অকপটে ও দ্বিধাহীন চিত্তে আমরা ঘোষণা করছি, আমাদের সংগঠনের দার্শনিক ভিত্তি সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ।’ লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘সমাজবিপ্লবের সহায়ক শক্তি হিসেবে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল। ৩৭ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন চিন্তা ও উপলব্ধির ভিত্তিতে সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা সর্বাত্মক উদ্যোগ নেব।’

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা ‘জরুরি দাবি’ জানায় নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করা সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হল-হোস্টেল খুলে দেওয়া, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন বেতন-ফি মওকুফ; মতপ্রকাশের কারণে হয়রানি-নিপীড়ন বন্ধ করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হল-হোস্টেলগুলোয় একক দখলদারির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ছাত্র ফ্রন্টে যান্ত্রিক আনুগত্যের সংস্কৃতি, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঘাটতিসহ কয়েকটি মতপার্থক্য রয়েছে যা ছাত্র ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মূলত, এ কারণেই সংগঠন থেকে পৃথক হয়েছেন বলে জানান গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন।

এদিকে এই ভাঙনের বিষয়ে বাসদ (মার্কসবাদী) সমর্থিত ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘যে কথা বলে তাঁরা (ছাত্র কাউন্সিল) ছাত্র ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেলেন, তাঁদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা উন্নততর গণতন্ত্রের চর্চা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে পারেন।’

https://www.bdcurrentnews24.com/wp-content/uploads/2022/07/ad-1.jpg