রংপুরে কথিত জিনের বাদশা চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি : রংপুর মেট্রো মাহিগঞ্জ থানা, গাইবান্ধা জেলার, গোবিন্দগঞ্জ থানার সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কথিত জিনের বাদশা চক্রের ৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সেই সময় তাদের কাছে থেকে প্রতারণার কাজে ব্যাবহৃত কয়েকটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি উদ্ধার করেন পুলিশ। ইতোমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিষয়ে মাহিগঞ্জ থানার ১টি মামলা রুজু করা হয়েছে, যাহার মামলা নং-০৮। শুক্রবার (২৯ মে) ২০২০ ইং দুপুর ৩ টার সময় কথিত জিনের বাদশা চক্রটিকে গ্রেফতারের জন্য মেট্রো মাহিগঞ্জ থানায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতারণা চক্রের গ্রেফতারকৃত ০৪ সদস্যরা হলেন যথাক্রমে, ১। মোঃ রিয়াদ হাসান রকি, (২০) পিতা- মোঃ আব্দুল করিম, ২। মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম, (৩৫) পিতা- মৃতঃ আফসার আলী, উভয়ের সাং- তালুক কানুপুর, ৩। মোঃ আজহার আলী শেখ, (৩২) পিতা- মোঃ মজিবর রহমান শেখ, সাং- নাকাই, ৩। মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন (৪৫) পিতা- মৃতঃ লুৎফর রহমান মন্ডল, সাং- বাজুনিয়া পাড়া, উভয়ের থানা- গোবিন্দগঞ্জ, জেলা- গাইবান্ধা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান বলেন, কথিত জিনের বাদশা চক্রের প্রতারণাকারী চার সদস্যকে গ্রেফতর করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনই একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক ধাপে ১,০৮,৫০০/= (এক লক্ষ আট হাজার পাঁচশত) টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবেই তারা দিনের পর দিন মানুষদের’কে বোকা বানিয়ে দেদারসে তাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতারণা চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে আরো অন্যান্য প্রতারণা চক্রের সদস্যদেরকেও গ্রেফতার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং শিঘ্রই বাকিদের গ্রেফতার করে আইনে আওতায় নিয়ে দেশের প্রচলিত আইনে আইনানুগ  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ও নিবিড় তদন্তে জানা যায়, এ চক্রের চারজন সদস্য দীর্ঘ দিন ধরে অনেক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে । তারা গভীর রাতে নির্জন জায়গায় বসে ভুক্তভোগীদের মোবাইলে কল করতে থাকে। এভাবে তারা প্রতি রাতে বিভিন্ন জেলার যেকোনো একটি মোবাইল নম্বর কে ভিত্তি ধরে বিভিন্ন ডিজিট পরিবর্তন করে নতুন নম্বর তৈরি করে মোবাইলে ফোন দিতে থাকে। তারা অভিনব কৌশলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের বশীভূত ও প্রলুব্ধ করেন।  বিভিন্ন মানুষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার (পিপিএম), সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ ফারুক আহমেদ, মাহিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আখতারুজ্জামান প্রধান, মাহিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শাহ আলম সরদার প্রমুখ।