রাজশাহীর তানোরে ধর্ষণ করে বাক্সে ঢুকেও হলো না শেষ কক্ষা অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার

রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি :করোনার পাদুর্ভাবআর পবিত্র মাহে রমজানে মানুষ যখন সৃষ্টকর্তার কাছে সাহায্যে ভিক্ষায় করছেন পার্থণা।

 আকাশ মেঘের গর্জন, নামছে তুমুল বৃষ্টি’ বইছিল ঝড়ো বাতাস এই রকম একটি দূর্যোগের ভেতরেই এক নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের ১টি কুরুচিপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। ওই ধর্ষণের ঘটনায় হাসান আলী (২৮), নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণের পর ঘটনাটি জানাজানি হলে সেই ধর্ষক এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে বড় বাক্সের ভেতর লুকিয়ে পড়ে, তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। বাক্সের ভেতর থেকেই তাকে ধরে এনেছে পুলিশ এ ব্যাপারে থানায় আসামীর বিরুদ্ধে ১টি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।74

এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোরে, অভিযুক্ত আসামী হাসানের বাড়ি উপজেলার নড়িয়াল গ্রামে, তার বাবার নাম নূরনবী। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও কয়েকজন নারীকে ধর্ষণ করেছেন হাসান। একবার তো এক নারী ধর্ষণের সময় তার গোপনাঙ্গে ব্লেড চালিয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন হাসান।

তানোর থানার অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, হাসান আলী দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামের এক নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ওই নারী এক সন্তানের জননী। তার স্বামী ইটভাটার ১জন শ্রমিক, দুই মাস ধরে আছেন সিরাজগঞ্জে। ওই গৃহবধু মঙ্গলবার (৫ মে) ২০২০ ইং বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রচন্ড ঝড় ও বৃষ্টির সময় বাড়িতে একাই ছিলেন। এ সুযোগেই বাড়িতে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন হাসান। সেই সময় ঝড় ও বৃষ্টির কারণে কেউ ওই নারীর চিৎকার শুনতে পাননি, ধর্ষণের পর হাসান সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরে ওই গৃহবধু‚ বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানান, খবর পেয়ে পুরো গ্রামের লোক খুঁজতে থাকেন হাসানকে। পরে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশের হর্ট লাইন ৯৯৯ নম্বরে। খবর পাওয়ার সাথেই পুলিশ এসে উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। তারপর হাসানের এক আত্মীয়ের বাড়ির একটি বক্সের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করতে সক্ষম হন তানোর থানা পুলিশ। আটকের পর ওই ধর্ষীতা নারী ধর্ষক হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৮ মাস আগে একই গ্রামের আরেক গৃহবধ’কে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন এই নারী লোভী হাসান। তখন ওই গৃহবধু‚ হাসানের গোপনাঙ্গে বেল্ড চালিয়ে ছিলেন। পরে চিকিৎসায় সুস্থ্য হয়েছে, এরও আগে গ্রামের আরও ৪জন গৃহবধু তার লালশার শিকার হয়েছেন। কিন্তু গ্রামের কতিপয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়। হাসানের কারণে গ্রামের আরও দুই নারীর সংসার টেকেনি বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

তবে, এবারে মামলাসহ গ্রেফতার হয়েছে হাসান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তানোরের মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর লুকিয়ে থাকা বাড়িটি গ্রামবাসী ঘিরে রেখে ছিলেন। পরে তাকে বাড়ির একটি বড় বাক্সের ভেতর থেকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, এই করোনার দূর্যোগ তথা পবিত্র রমজান মাসে ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখ জনক ও লজ্জাস্কর। এ ঘটনায় গৃৃহবধু নিজেই বাদি হয়ে থানায় লিখিত ভাবে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় হাসানকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ধর্ষীতা গৃহবধুর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। সারীরিক পরিক্ষা শেষে ভিকটিমকে তার বাসায় পাটিয়ে দেওয়া হয়েছি।