রাজশাহীর বাগমারায় নাবালিকা শালিকাকে নিয়ে দুলাভাই উধাও

গত ঈদুল ফিতরের দিন শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে এসে বিকেলে আপন শালিকাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি লম্পট দুলাভাইকোরবান আলী শেখ ওরফে নয়ন শেখ (২৪)।সে পাশ্ববর্তী আত্রাই উপজেলার খলিফাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান শেখের পুত্র বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় বাগমারা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ দীর্ঘ ১৬ দিন পর 
ওই কিশোরীকে মঙ্গললবার (০৯ জুন) ২০২০ ইংরাত্রি সাড়ে দশটার দিকে বগুড়া সদর থানাধীন ইসলাম হরিগাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন, উদ্ধারকৃত ওই কিশোরীকে বুধবার 
(১০ জুন) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টফ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)’তে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পাশ্ববর্তী আত্রাই উপজেলার খলিফাপাড়া গ্রামের মো.আব্দুল মান্নান শেখের ছেলে কোরবান আলী ওরফে (নয়ন) এর সাথে বাগমারা উপজেলা মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির মেয়ের গত তিন বছর পূর্বে ইসলামী শরিয়ামোতাবেক বিয়ে হয়, বিয়ের পর তাদের ঘরে
কোন সন্তানাদি জন্ম নেয় নাই।

বিয়ের পর হতে জামাই নয়ন শেখ শ্বশুরবাড়ি নিয়মিত যাতাযাত করতে থাকে এবং গোপনে আপন শালিকা একই এলাকার কাঁঠালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক চালাতে থাকে।

বিষয়টি উভয় পরিবারের কোন সদস্য বুঝে ওঠার আগেই গত ২৫ মে ঈদুল ফিতরের দিন দুলাভাই নয়ন শেখ তার শালিকাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।পরে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও তারা আর ফিরে আসেনা।

ওই দিন দুলাভাই প্রলোভন দিয়ে তার শালিকাকে শহরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।এতে শালিকা বাঁধা দিলে পরে তাকে একটি সিএনজিতে তুলে জোর পূর্বক অপহরন করে নিয়ে যায় দুলাভাই নয়ন।

পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে আটকিয়ে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করেন নয়ন শেখের স্ত্রী মামলার বাদী মোসা. জেসমিন আরা তিনি জানান, নয়ন শেখ একজন 
প্রতারক ভন্ড নারী নির্যাতনকারী ও যৌতুক 
লোভী।

বিয়ের পর থেকেই তাকে মোটা অংকের যৌতুক দেওয়া হলেও সে পুরনায় যৌতুক দাবী করে এবং তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।সর্বপরি সে তার স্কুল পড়ুয়া মেধাবী ছোট বোন’কে প্রলোভন দিয়ে এক রকম জোর পূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে তার উপর পাষবিক নির্যাতন চালিয়েছে।

মামলাটির তদন্তকারী অফিসার বাগমারা থানারসেকেন্ড অফিসার এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর ভিকটিমের বড়বোন মামলা দায়ের করলে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নয়ন শেখের ছোট ভাই নাঈম শেখকে গ্রেফতার করা হয়। 

পরে তার কাছে থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নয়ন শেখকে গ্রেফতারে পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করে।ধূর্ত নয়ন বার বার স্থান পরিবর্তনের কারণে তাকে শুরুর দিকে গ্রেপ্তারে কিছুটা বিলম্ব হয়।

সর্বশেষ মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত্রী সাড়ে দশটার দিকে বগুড়া জেলার সদর থানাধীন ইসলাম হরিগাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধারসহ নয়নশেখকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই এই 
গ্রেফতার অভিযানে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অংশ
গ্রহণ করেন সদর সার্কেলের এএসপি সুমন দেব।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান গণমাধ্যম কর্মীদের জানানগ্রেফতারকৃত কোরবান আলী ওরফে (নয়ন) শেখকে বুধবার (১০ জুন) আদালতের মাধ্যমে
জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে উদ্ধারকৃত কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য একইদিন বুধবার তাকে রাজশাহী মেডিকেলের ওয়ান স্টফ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)’ তে প্রেরণ করা হয়েছে।

রুহুল আমীন খন্দকার/বিশেষ প্রতিনিধি/