রাজশাহী জেলা আ’লীগের সম্মেলনে সম্পাদক হতে চান ছাত্রনেতা শরিফ

রুহুল আগামীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান: আসন্ন ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । আসন্ন এই সম্মেলনে কারা জেলার শীর্ষ নেতৃত্বে আসছেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা আর ষড়যন্ত্র। তবে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগকে সুসংগোঠিত করে জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা এ্যাডভোকেট মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ। রবিবার (২৪ নভেম্বর ২০১৯) বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর চিলিজ পার্টি জোনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলার এই দায়িত্ব নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন” রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে আগেও অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরেও ষড়যন্ত্রণকারীরা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্য করতে তারা জেলা আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টি করেছে। তাই যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে দলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজশাহীর তৃণমূল আওয়ামীলীগকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহীতে দলে অনুপ্রবেশকারী তথা হাইব্রিট নেতায় ছেয়ে গেছে। তাদের অনেকেই জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসার জোর তৎপরতা শুরু করেছে। তাই এসব হাইব্রিট নেতারা যাতে নেতৃত্বে না আসতে পারে সেজন্য রাজশাহীর জনমানুষের আশা আকাংক্ষার প্রতীক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জমান লিটনের নিকটও অনুরোধ জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগের এই সাধারণ সম্পাদক।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর সংসদ সদস্যদের অনেকেই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তারা উপজেলাতেই দলকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে অনেক বেশি কাজ করতে পারেন। কিন্তু এমপিদের মধ্যে অনেকেই আবার জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা একদিকে জনপ্রতিনিধি অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পরও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে না নিয়ে আসতে দলের নীতি নির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আমি এবং আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমার মামা আব্দুস সোবহান মন্ডল জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। আরেক মামা পবা উপজেলার সহ-সভাপতি ছিলেন। আমার সহধর্মিনী নার্গিস শেলী জেলা যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

আমার ভগ্নিপতি মো. আলাউদ্দিন মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আমি নিজে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকাকালে বিশেষ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ৭৫’র ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে হত্যার পর এই হত্যার বিচারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলক ফটকে পোস্টার লাগাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হই।

১৯৭৭ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে মিছিল বের করলে ছাত্রমৈত্রীর সন্ত্রাসীরা মিছিলে হামলা করে এবং আমাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক জেল-জুলুম সহ্য করেছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি ৩৬ বার কারাবরণ করেছি।

তাই আমার এবং আমার পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে মনোনীত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দলের নীতি নির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ মৃধা, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোসলেম উদ্দিন, ডা. মুনতাজ আলী, রাজশাহী যুব মহিলা লীগ সভানেত্রী অধ্যাপক নার্গিস শেলীসহ আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।