রাজশাহী পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স টিম ভাইরাস প্রতিরোধে চালাচ্ছে প্রচার-প্রচারনা

রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি : ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘স্পেশাল রেসপন্স টিম’ গঠন করেছেন রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বিপিএম, পিপিএম।

তার’ই দিক নির্দেশনায় ও সঠিক পরামর্শের ভিত্তিতে বুধবার (২৫ মার্চ) ২০২০ ইং এ টিমটি গঠন করা হয়। মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরী ভিত্তিতে দ্রুত সাড়া পেতে ও বিদেশফেরত নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার বিষয়টি আরও বেশি কার্যকর করার লক্ষ্যে রাজশাহী জেলা পুলিশের’ স্পেশাল রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে।

এই স্পেশাল রেসপন্স টিমের সদস্য সংখ্যা ৩০ জন। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এ টিমের কার্যক্রম মনিটরিং করবেন। টিমের প্রত্যেককে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিশেষ ব্রিফিং করা হয়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে রাজশাহী পুলিশের কার্যালয় প্রাঙ্গণে দলটির সদস্যদের বিশেষ দিক নির্দেশনা দেন এসপি শহিদুল্লাহ।

তার’ই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৮শে মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ এর নির্দেশ ক্রমে ১২ জনের একটি স্পেশাল রেসপন্স টিম তানোর থানায় এসে পৌঁছেন। সেখানে অল্প সময় অবস্থান করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসানের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে থানা এলাকায় জনসচেতনতায় কার্যক্রম মনিটরিং এর ১টি প্লানিং তৈরী করেন।

প্লান মাফিক বেলা ১১ টার দিকে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে, থানার তদন্ত ওসি আনোয়ার হোসেন, সঙ্গী অফিসার ও পুলিশ ফোর্সসহ স্পেশাল রেসপন্স টিমকে সাথে নিয়ে তানোর থানার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলোতে সারাদিন ব্যাপি মনিটরিং করেন। তাঁরা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে থানা এলাকায় অবস্থানরত জনগনকে করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতন থাকা, বিদেশ ফেরত নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা, ব্যাবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীও দ্রব্য মূল্যের দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকান না খোলার অনুরোধ জানান এবং সবাইকে গুজব থেকে বিরত থাকার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।

এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, আমাদের শ্রাদ্ধীয় রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায়, পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স টিমের সদস্যদের সাথে নিয়ে শনিবার তানোর থানার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলো মনিটরিং করেছি। এলাকা গুলো হচ্ছে যেমন, তানোর উপজেলা সদর, মুন্ডুমালা পৌর সদর, চাঁন্দুড়িয়া বাজার, কালিগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তা ঘাট। সেই সময় আমরা জনসাধারণকে একজন থেকে আরেক জনকে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থকার পরামর্শ দেয়। বারবার প্রয়োজনমতো সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে পরামর্শ দেই, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কিংবা সংক্রমণস্থলে ভ্রমণ না করা, জীবিত অথবা মৃত গৃহপালিত/বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকা, আক্রান্ত ব্যক্তি হতে দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, যেখানে-সেখানে কফ কাঁশি না ফেলা, বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে এসেছে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ প্রদান করেছি।

তিনি আরো বলেন, এ ছাড়াও বিদেশফের ব্যাক্তিদের বাড়িতে গিয়ে তাদের রাষ্ট্রীয় সকল প্রকার নির্দেশনা মানার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং নিশ্চিতকরণের জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছি। এমনকি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো হচ্ছে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সচেতনতা মুলক প্রচার-প্রচানা। সর্বপরি আমরা তানোর থানা এলাকায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনপ্রকার কমতি রাখিনি। দিন-রাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি, পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন।