রাণীশংকৈলে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন


হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
  সারাদেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বছর ঘুরে আবার এসেছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব-শারদীয় দুর্গাপূজা। দিনের পরিক্রমায় ভক্তদের কাছ থেকে আবারও গজে চড়ে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা।

 সিঁদুর খেলা শেষে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় উৎসবের। শেষ দিনে হাসি আনন্দের সঙ্গে ভক্তদের চোখে ছিল জল। বিদায় বেলা অনেকে অঝোরে কেঁদেছেন। তাইতো প্রকৃতিও যেন ছিল অনেকটাই বিষন্ন।

এভাবেই প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন রাণীশংকৈল উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।২৬ অক্টোবর মোমবার দশমীর দিনশেষে সন্ধায় সিঁদুর খেলা শেষে  আনন্দ উৎসব ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হয়।
গত ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় ‘আনন্দময়ীর’ নিদ্রাভঙ্গের বন্দনায় করোনাকে মাথায় রেখে যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, সোমবার দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনে তার সাঙ্গ হল।

বাবার বাড়ি বেড়ানো শেষে দেবী দুর্গা এক বছরের জন্য ফিরে গেলেন ‘কৈলাসের শ্বশুরালয়ে’; সমাপ্তি হল একটি জলভর্তি হাঁড়িতে স্থাপিত আয়নায় মা দুর্গার প্রতিচ্ছবি আনার মাধ্যমে এবং বাঙালী হিন্দুর সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের।রাণীশংকৈল কুলিক নদীর বড়ব্রীজ সংলগ্ন  ঘাটে রাতে পৌরশহরসহ বিভিন্ন এলাকার মন্ডপের প্রতিমাদের বিসর্জন দেওয়া হয়।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ঘাটে প্রতিমার বিসর্জন ঘটে। এ সময় রাণীশংকৈল থানা পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা প্রথমে মা দুর্গার পায়ে সিঁদুর দিয়ে তাঁদের ভক্তি জানান।

পরে নিজেদের মধ্যে সিঁদুর খেলায় আনন্দে মেতে উঠেন এবং উপজেলার সকল পূজা মণ্ডপে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক সাধন কুমার বসাক জানান, এবছর উপজেলায় ৫৪ টি মন্ডপে পূজা সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন করেছি।