রাণীশংকৈলে হলুদ ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে ফসলের মাঠ

রাণীশংকৈল প্রতিনিধি ঃ প্রান্তর জুড়ে উঁকি দিচ্ছে শীতের শিশির ভেজা সরিষা ফুলের দোল খাওয়া গাছগুলো। যেদিক চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুল এ এক অনন্য অপরুপ সৌন্দর্য।যেন গাঁয়ে হলুদ বরণ সাজে সেজেছে প্রকৃতি কন্যা। সরিষা ফুলের হলুদ রঙের চাদরে আবৃত রাণীশংকৈল উপজেলার অনেক এলাকা।মাঠের চারপাশ জুড়ে সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত সরিষার মাঠ। বিভিন্ন গ্রামে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে সরিষার আবাদ। মৌসুমী ফলনের পাশাপাশি হলুদের হাসি যেন অন্য সকল সুন্দরকে হার মানিয়ে মাঠজুড়ে আলোর হাসি হয়ে উঠেছে।

এবার ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে ।এই সময়ে সরিষার জন্য অনূকুল আবহাওয়া হওয়ায় বেড়ে ওঠা গাছ আর ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন সরিষা চাষিরা । হলুদ রংয়ে আর মিষ্টি সুবাসে ভরে গেছে সরিষার ক্ষেতগুলো। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে এ ফসল আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কৃষকের মাঝে।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে ,চলতি মৌসুমে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে মোট ৪৮৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে।বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ কৃষকরা তাদের জমিতে উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪,বারি-১৫ ও বিনা সরিষা-৯ আবাদ করছেন। তবে কৃষি বিভাগ মনে করছেন গত বছর সরিষা চাষিরা স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়েছেন। এই মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় এই উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা এবং সরিষা চাষিরা অধিক মুনাফা লাভ করবে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।

কয়েকজন সরিষা চাষির কাছ থেকে জানা গেছে,বছরের পর বছর স্থানীয় জাত চাষ করে ফলন কম হওয়া এবং উৎপাদন সময় বেশি লাগার কারনে তারা সরিষা চাষ অনেকাংশে কমিয়ে দেন। তবে চলতি মৌসুমের শুরুতে উপজেলা কৃষি বিভাগ সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে।এবার বৈরী আবহাওয়া না থাকার কারণে সরিষার ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, কৃষকের অর্জন মানেই আমাদের অর্জন।সরিষা চাষে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।পরিচর্যা সেভাবে করতে হয় না এ ফসলে। তাই খরচ অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম হওয়ায় কৃষকেরা সরিষা চাষে উৎসাহী হয়ে উঠেছে।