রায়পুরে বাঙ্গি চাষ করে বিপাকে কৃষক বিক্রি করতে না পারায়: হাসি নেই কৃষকের মুখে

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এবার বাঙ্গির চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে, উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে রয়েছে কৃষক, হাসি নেই কৃষকের মুখে। বিগত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩০ হেক্টর বেশি চাষাবাদ হয়েছে। রায়পুরের হায়দরগঞ্জ, উদমারা, দক্ষিণ ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে বাঙ্গি চাষ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, এবার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিকূলতার ফলন ভালো হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে গেল বছর ১৮৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়। এবার ১০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাঙ্গির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে মহামারি করোনা এবং গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে বাঙ্গি ক্রয় বিক্রি কম হচ্ছে, কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যার্য মূল্য নিয়ে হতাশায় ভুগছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং ঠিকমত বাঙ্গি বিক্রি করতে পারলে কৃষক বেশ লাভবান হবে। কৃষি বিভাগ এখানকার কৃষকের মাঝে প্রনোদনা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। আগামী বছর যেন কৃষক আরও বেশি পরিমান জমিতে বাঙ্গি চাষ করে।

সরেজমিনে ঘুরে জানাযায়, উত্তর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জের ঝাউডগি, কেরোয়াডগি, চর পাঙ্গাশিয়া, দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নে উদমারা, ক্যাম্পেরহাট, মিতালী বাজার, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরঘাসিয়া, চরইন্দুরিয়া, কানিবঘার চর, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের টুনুরচর, চরকাছিয়া সহ বেশ কয়েকটি জায়গা প্রচুর পরিমানে বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে।

ওইখানকার কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিন থেকে করোনার কারণে উৎপাদিত ফসল বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না তারা, যানবাহন চলাচল করলে বাঙ্গি ফল বাংলাদেশ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতেন এবং পাইকাররা আসতেন। টানা কয়েকদিনের বর্ষণে কিছু ক্ষেতের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে তাদের ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, উৎপাদিত বাঙ্গি বিক্রির জন্য নিদিষ্ট জায়গা করে দেওয়া হয়, না হলে তাদের বিপুল পরিমান লোকসান হবে। মাল নিয়ে বিক্রি করতে গেলে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়, এতে করে ব্যবসায়ীরা হয়রানির স্বীকার হয়, এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান তারা।