রায়পুরে শুরু হয়নি জেলা পরিষদের দু’টি পুকুর খননের কাজ

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: টেন্ডারের এক বছর পার হয়ে গেলেও রায়পুর উপজেলায় ২টি পুকুরসহ লক্ষ্মীপুরে জেলা পরিষদের ২ কোটি টাকার পুকুর খননের কাজ এখনো রহস্যজনক কারনে শুরুই হয়নি। লক্ষ্মীপুরে জেলার ৫টি উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্য পুকুর, দীঘি এবং জলাশয় পুন: খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালীরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এ কাজের সঙ্গে জড়িত।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্য জেলা পরিষদের পুকুর, দীঘি, জলাশয় পুন:খনন ও সংস্কারকরণ প্রকল্পের আওতায় ৬টি বড় পুকুর ও আরো ৩ টি ছোট পুকুর পুন: খনন কাজ চলার কথা রয়েছে। গত ২০১৮ইং সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই উপলক্ষে গোপনে একটি টেন্ডার হয়। পুকুরগুলো হলো রামগতি ১টি, সদর ৩টি, রামগঞ্জে ২টি রায়পুরে ১টি। ছোট আকারে রামগঞ্জে ২টি এবং রায়পুরে ১টি। এই ৬+৩ টি পুকুর পুন:খননের জন্য ২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার।

এ প্রকল্পের কাজ হলো পুকুরে মাটি কাটা,পাড়ে মাটি ভরাট এবং পাড় বাঁধা, রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টিং রেইন ওয়াটার সংগ্রহ করে পুকুর পাড়ে জমা করা, এ্যাপ্রোচ রোড তৈরি, ওয়াক ওয়ে নির্মাণ, বল্লি দিয়ে প্যালাসাটিং করা, কাঁটাতারের বেড়া (বার্বেট ফেন্সিং), পাড়ে ঘাস লাগানো, পানি নিষ্কাশন, গাছ লাগানো ও সার্ভে করা। সূত্রে জানাযায়, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত তহবিল থেকে এ (৬+৩)টি পুকুর পুন:খননের অর্থ জোগান দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় পুন:খনন করা হচ্ছে ৩টি পুকুর রামগঞ্জে ২টি রায়পুরে ১টি এ ৩টি পুকুর খননের জন্য বরাদ্ধ রয়েছে ৪৮ লক্ষ টাকা। উক্ত প্রকল্পের আওতায় কাজ রয়েছে সার্ভে, মাটি কাটা,পানি সেচ, পাড় বাধাই, গাছ লাগানো, গেট নির্মাণ ও কাঁটাতারের বেড়া দেয়া। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, টেন্ডারের ১বছর পার হয়ে গেলেও অথচ পুকুরগুলোর খননসহ অন্যান্য কাজ এখনও শুরু হয়নি। কোন জায়গায় প্রকল্পের সাইনবার্ড নেই। কোন ধরনের সরঞ্জাম এখনও আসেনি সব মিলে রহস্যজনক ভাবে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি। স্থানীয়রা জানেন না, কি কাজ, কার কাজ, কারা করবেন বা করছেন, এবং কত টাকা বরাদ্ধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বর্ষাজনিত কারণে ঠিকাদার কাজটি করতে বিলম্ভ হচ্ছে, আশা করি যথা সময়ে কাজটি সম্পূর্ণ হবে। সূত্রে জানাগেছে, মেঘনা ও মনির টের্ডাস নামে একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মো: তাজুল ইসলাম ভুঁইয়ার কাজটি পেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্ষার কারণে কাজটি করতে বিলম্ব হচ্ছে। যথাসময়ে আসা করি কাজ সম্পূর্ণ হবে। এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, বর্ষার কারণে ঠিকাদার কাজ আরম্ভ করতে পারেনি আর কিছু দিন পরে কাজ শুরু করা হবে। কাজটি ২% লেইসে পেয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলার জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুকুর সংস্কারের কাজগুলো শুরু করেছি হায়দরগঞ্জ কাজটি আইনি জটিলতা থাকায় কাজ করা যাচ্ছেনা।