রায়পুরে সুপারির বাগানে নবজাতকের কান্না পরে উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর একটি সুপারির বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রবিবার ভোরে উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সুলতানিয়া স্কুলের পাশের পন্ডিত বাড়ীর বাগানে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিক পাঠান জানান, রবিবার ভোর ৬ টার দিকে পন্ডিত বাড়ীর একটি বাগানে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায় বলে স্থানীয় ভ্যানচালক তাহেরের স্ত্রী ফাতেমা নামের এক গৃহবধূকে খবর দেন। পরে ফাতেমা নবজাতককে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ নবজাতক ও ফাতেমাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে সে ফাতেমার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

উদ্ধারকারী ফাতেমা বেগম বলেন, তিনি যখন বাগানে নবজাতকটি পান তখন তাকে উল্টো করে ফেলে রাখা ছিল। এছাড়া নবজাতকের কাপড়ের রশি প্যাঁচানো ছিল। নবজাতক শিশুটি ছেলে সন্তান। পরে তিনি পুলিশের সহযোগিতায় নবজাতককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে সে আমার তত্ত্বাবধানে সুস্থ রয়েছে।

এসআই শেখ কামাল হোসেন বলেন, নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়, খাদ্য ও ওষুধপত্র কিনে দিয়েছি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সম্ভবত তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তা ছাড়া বাগানের ভেতর শিয়াল-কুকুরও খেয়ে ফেলতে পারত। তবে আল্লাহর অশেষ কৃপায় সে বেঁচে আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী জানান, ওই নবজাতক ছেলেটিকে নেওয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহ দেখান। কিন্তু উদ্ধারকারী পরিবারের আগ্রহের কারণে তাদের কাছেই আপাতত লালনপালনের ভার দেওয়া হবে।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ তোতা মিয়া জানান, আপাতত লকডাউনের কারণে কোর্ট বন্ধ থাকায় সাময়িকভাবে উদ্ধারকারী পরিবারের অনুরোধে বাচ্চাটিকে তাদের নিকট রাখা হয়েছে।