রায়পুর-খাসেরহাট সড়ক যেন মরণ ফাঁদ

0
67

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-খাসেরহাট প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের পিচ কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা খন্দের। দেখলে মনে হয় এ যেন সড়ক নয়, মরণ ফাঁদ। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের এসব খানা খন্দ পানিতে ভরে গিয়ে বিঘ্ন ঘটে যান চলাচলে। এভাবে বিপদের আশঙ্কা নিয়েই যান চলাচল করছে গ্রামীন এই আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। ভারী যানবাহন ও ইট ভাটার অবৈধ ট্রাক্টরের কারনে সড়কটি সংস্কারের ৬ মাস না যেতেই দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই অবৈধ যানবাহনগুলো বন্ধে এবং সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন গ্রামবাসী। প্রায় ৩ বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে খানা খন্দ ভরা এই সড়কের ১০ কিলোমিটার অংশ মাইনর মেইনটেনেস প্রকল্পের অধীনে সংস্কার করা হয়েছিল। এ কাজটি বাস্তবায়ন করেছিল প্রভাবশালী একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ৬ মাস যেতে না যেতেই এসব পিচ কার্পেটিং উঠে গিয়ে আবারও সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কটিতে ধীর গতিতে চলছে যানবাহন। ফলে এই ১০ কিলোমিটার সড়ক ৩০ মিনিটের যায়গায় ২ ঘন্টায় পার হতে হয়।


এছাড়া মাঝে মধ্যেই রাস্তায় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকছে যানবাহন। এ কারণে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। এই সড়ক দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর, খাসের হাট, হায়দরগঞ্জ ও রায়পুর সহ পশ্চিমের বিভিন্ন অঞ্চলের যানবাহন চলাচল করে প্রতিনিয়ত। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে সংস্কার করা হলো এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন সড়ক, অথচ কয়েক মাস না যেতেই এমন বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয় স্থানীয় দুটি ইট ভাটার প্রায় ৫০টি ট্রাক্টর ও বেশি ওজনের বড় ট্রাক চলাচলের কারনে। খতিয়ে দেখা দরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, এই সড়কে সংস্কার কাজ শেষে বিল উত্তোলন করার সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বাধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিল তুলে নিয়ে যায়। আর নিয়মানুসারে নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে কাজের ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিলে ওই ঠিকাদারের তা ঠিক করে দেওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে তা করা হয়নি। এটা সরকারের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। শনিবার (৩১ আগষ্ট-১৯) সরেজমিন রায়পুর-খাসেরহাট সড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পাটওয়ারী রাস্তার মাথা থেকে শুরু করে পাটওয়ারী বাড়ীর সামনে, প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের সামনে, কাজীগো চৌরাস্তা, বংশী বাজার, চরবংশী ইটভাটার সামনে, আখন বাজার সড়ক মোড়, মোল্লার হাট বাজার, বাবুর হাট, হাজীমারা, মিয়ার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ৫ হাজার ছোট-বড় যান চলাচল সহ প্রায় লক্ষাধিক গ্রামবাসী যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের খানা খন্দে পানি জমে যায়। ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এই সড়ক চলাচলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, রায়পুর থেকে পাটওয়ারী রাস্তার মাথা হয়ে খাসের হাট আঞ্চলিক এ ব্যস্ততম সড়কে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে খানা খন্দের সৃষ্টি হয়নি। জেলা বৃহত্তম কৃষি অঞ্চল তথা ৩টি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ৫টি বাজারের প্রায় লক্ষাধিক ব্যবসায়ী যাতায়াত করেন। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে। জনগণের কাছে সড়কটি এখন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটির এমন করুণ অবস্থা হয়েছে যে, যানবাহন তো পরের কথা পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টকর। অনেকেই বিকল্প সড়ক হিসেবে স্টীল ব্রিজ- চরমোহনা ইউনিয়ন হয়ে রায়পুর শহরে আসতে হয়। স্থানীয় অটোরিকশা চালক কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় দুটি ইট ভাটার ৫০টি মালবাহী ট্রাক্টর ও বেশি ওজনের ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের ঝাঁকুনিতে অসুস্থ হয়ে পড়ে অধিকাংশ যাত্রী।

এছাড়া মাঝে-মধ্যে তাদের যানবাহনেও বিপত্তি ঘটে। সড়কের খানা-খন্দের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে তিনগুণ, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। মাঝে মধ্যে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। এতে গাড়িতে থাকা পণ্য সঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পারায় তা নষ্ট হয়ে যায়। লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত জানান, বিষয়টি অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। এই সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ভিডিও ফাইল পাঠানো হয়েছে। ইট ভাটার ট্রাক্টর ও ভারী ওজনের ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ট্রাক্টর বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয় ব্যবস্থা নিলে আমাদের জন্যও উপকার হয় এবং সড়কও টেকশই হয়।