রায়পুর পৌরমেয়র পদে রুবেল ভাট প্রার্থী, নড়েচড়ে উঠেছে যুবসমাজ

রায়পুর( লক্ষীপুর) প্রতিনিধিঃ রায়পুরে মেয়র পদে নির্বাচিত হলে নাগরিকসেবা যে কোন মুল্যে  জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কথা জানিয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা গিয়াাস উদ্দিন রুবেল ভাট। একজন তরুণ সমাজসেবক, সংগঠক, শিক্ষানুরাগী, প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক গিয়াসউদ্দিন রুবেল ভাট, রায়পুর পৌরসভার এক গর্বীত নাম। জনগনের কল্যানমুলক কাজে অবিরাম নিয়োজিক থেকে ইতিমধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ভালোবাসার জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন পাকাপোক্তভাবে। দীর্ঘদিন ধরে এলকার মানুষের জন্য শিক্ষা স্বাস্থ্যসহ নানা দান অনুদান ও সমাজ উন্নয়নমুলক কাজ করে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন পৌরবাসীর সমস্যা আগে থেকেই চিহ্নিত। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও র্দীর্ঘদিন ধরে পৌরবাসীর জন্য কাজ করে কাজের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। দল চাইলে এবং আমি মেয়র পদে নির্বাচিত হলে আগামী ৫ বছর রায়পুরবাসীর সেবায় তা কাজে লাগাতে চাই।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জার্নাল  প্রতিনিধির সাথে  সাক্ষাৎকারে এমন কথা জানান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও আসন্ন মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছে পোষনকারী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজপথের এ তুখোড় নেতা। এরই মধ্যে কাজ ও ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমে রায়পুরের সাধারণ মানুষের মনের মাঝে জায়গা করে নিয়েছেন রুবেল ভাট। তার বিশ্বাস রায়পুরবাসী আগামী নির্বাচনে তাকে নিরাশ করবেন না। তারা পুনরায় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে মেয়র নির্বাচিত করবেন এবং কাজ করার সুযোগ দেবেন আগামী ৫ বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি রায়পুরকে একটি পরিকল্পিত, বাসযোগ্য, সত্যিকারের নাগরিক সুবিধা অনায়াসে পাওয়ার মতো গর্বের পৌরপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা জনগনকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পালন না করার ইতিপূর্বের সংস্কৃতি বদলে দিতে চাই আামি। নির্বাচিত হলে দয়িত্ব পালনে কিভাবে শততার দৃষ্টান্ত তৈরি করবেন এসব তুলে ধরে তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করবো। আমি জলাবদ্ধতামুক্ত রায়পুর শহর গড়ব। খাল উদ্ধার করে ডাকাতীয়াকে সৌন্দর্যময় করতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেবো। শহরকে আলোকময় করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সড়কবাতি সেক্টরে তদারকি ও প্রকল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে সততার সাথে কাজ করবো। আমি কথায় না, আমি কাজে বিশ্বাসী। মানুষ আমার প্রতি যে আস্থা ইতিমধ্যে রেখেছে। অল্প সময়ে তার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করবো আমি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে রুবেল  বলেন, নির্বাচিত হলে মশক নিধনে যা যা করা দরকার তাই করব। মশার ওষুধ নিয়ে যে সিন্ডিকেট ছিল, সেটা ভেঙে দেবো। মশক নিধনে বছরব্যাপী কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। টেন্ডারবাজির যে বদনাম আছে তা আমি ঘোচাবই। অনগ্রসর এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এলাকভিত্তিক আলাদা পরিকল্পনা করতে চাই। কোনো এলাকাই বঞ্চিত হবে না। পিছিয়েপড়া ওয়ার্ডগুলোতে পরিকল্পিত নগরায়ন করব। তাছাড়া কোথায় বাজার হবে, কোথায় খেলার মাঠ হবে, কোথায় রিনোদন কেন্দ্র হলে ভালো হয়, কোথায় কমিউনিটি সেন্টার হবে-সেভাবে ডিজাইন করে প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিকায়ন করব। প্রান্তিক এলাকাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরো পৌর শহর এলাকাকে পরিকল্পিত শহর হিসেব গড়ে তুলব। বিল্ডংকোড মেনে ভবন তোলায় গুরুত্ব দেবো। এ জন্য প্রথমে কিছু মডেল ওয়ার্ড করব এবং এগুলোকে বেইজ ধরে উন্নয়ন করব। এতে সফলতা পেলে অন্যান্য ওয়ার্ডেও একই ধরনের কর্মসূচি নেয়া হবে।

রায়পুরের সমস্যা এবং উত্তরণের কৌশল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রায়পুর পৌর শহর নাম সর্বস্ব শহর এখনো। শহরে অনেক সমস্যা। প্রতিনিয়ত মানুষ বাড়ছে। এই বাড়তি জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা রয়েছে আমার। তাছাড়া যানজট, জলজট ও গণপরিবহনের বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এগুলো সমাধানের পরিকল্পনা  করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কজে হাত দিবো। পৌর শহরের আশপাশের বিভিন্ন খাল পরিষ্কারে হাত দেবো। মানুষকে সচেতন করতেও সুনির্দষ্ট ফলপ্রসু বিভিন্ন পদক্ষেপ থাকবে আমার। মেয়র নির্বাচিত হলে সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলব। রায়পুরের মানুষকে যানজট ও জলজট থেকে মুক্তি দিতে কাজ করব আমি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রয়োজনে সব কাজকেই গুরুত্ব দিতে হবে। সবাই সবকিছু চায়। মশার সমস্যা সমাধানে বেশি গুরুত্ব দিলে, অন্যজন বলবে যানজটের কী হবে। আবার যানজটকে বেশি গুরুত্ব দিলে জলজটের কী হবে। এসব কারণে কোনো সমস্যাকে ছোট করে দেখা যাবে না। নাগরিকদের সব সমস্যা সমাধানে কাজ করব আমি। সত্য বলছি নিজেকে পৌরবাসীর উন্নয়নে উৎস্বর্গ করতে চাই। পৌর প্রশাসনের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, মানুষের যাতে হয়রানি না হয়, ভোগান্তি না হয়, এ জন্য পৌর প্রশাসনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকবে। আমি নির্বাচিত হলে রায়পুর পৌরসভা একটি শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান করে ছাড়ব। সরকারের মাষ্টার প্লান বাস্তবায়ন হবে আমার অগ্রাধিকারের জায়গা।

প্রসঙ্গত; জনাব গিয়াস উদ্দীন রুবেল ভাট ১৯৮১ সালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার তৎকালীন দেনায়েতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হুমায়ুন কবীর ভাট রায়পুর বাজারের একজন স্বনামধন্য ও সফল ব্যবসায়ী।