রোহিঙ্গাদের সঠিক তালিকা নিশ্চিত না করা হলে: দেশে ঘনিয়ে আসতে পারে মহা-বিপদ

    0
    255

    শুধু ধর্মের কারণে নয়, মানবিক বিবেচনায় মিয়ানমারের সামরিকজান্তার হাতে বিপন্ন প্রায় রোহিঙ্গা জাতিকে আশ্রয় দেওয়া মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। সে হউক রোহিঙ্গা হিন্দু কি মুসলমান।

    অন্যভাবে বললে, আসলে আমরা বাঙ্গালীরা বরাবরই আবেগময় জাতি। ঐ সময় সরকার রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে বাঁধা দিলে সরকারকে হিন্দু সরকার বানিয়ে লেংটা করে সারাদেশে অলি-গলি, পাড়া-মহল্লায় ও চায়ের-পানের দোকানে আবেগময় এ জাতি প্রচার করতো। শেখ হাসিনা সরকার বিচক্ষণতার প্রমান দিয়েছেন আর গদি টিকিয়েছেন। এছাড়া সুজনেরা বুঝতেছেন এর সাথে অনেক কিছু জড়িত।

    তবে সাথে সাথে এ কথা ভুলে গেলে হবে না যে এরা যে কোন সময় বাংলাদেশি জনতার মূল স্রোতে অতি সহজে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভাবছি। বিষয়টা হলো এদের ভাষা আর আমাদের চট্টলার ভাষা নেটিভ। চেহারা ও পোশাক পাহাড়িদের মতো। অতি দ্রুত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে এদের তালিকা নিশ্চিত না করতে পারলে মহা বিপদ হয়ে যাবে। এ কথাটি আমি ২০১৭ এর সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন পেইজে লিখে আসছি। এদের প্রবেশকালে যদি এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো তাহলে আজ এতটা অপরাধে রোহিঙ্গা জড়াতো না। ভবিষ্যতে এদের মায়ানমারে ফেরত দিতে সুবিধা ও বাংলাদেশের ভোটার হতে ও পাসপোর্ট পেতে প্রতিবন্ধকতা সৃজনে এটি অনেক কাজে লাগবে। মনে রাখতে হবে এরা মায়ানমারের নাগরিক মায়ানমারেই ফিরে যেতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বল প্রয়োগ, ভূ-রাজনীতি, ধর্মীয় অনুভূতি, সামরিক কৌশল, অতীত অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক এ ধরনের সমস্যায় সফল সমাধানের উদাহরন খুজতে হবে।

    এবারের জাতিসংঘ সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী ধর্ম নিয়ে যে হম্বিতম্বি দেখছি তাও ভালো লক্ষণ নয়।ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন তাবৎ দুনিয়ার জন্য মঙ্গল নয়। ইসরাইলের আজ্রাইল আচরণ, আইএসআইএস এর জোর করে নিজ বিশ্বাসে অনুগতকরণ, জঙ্গি উত্থান এবং মায়ানমারের এমন আচরণ আজ প্রশ্ন জাগিয়েছে, ধর্মটা কী? আর ধর্মীয় রাষ্ট্র করে তারা কী করবে? মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণে ধর্ম না ধর্মের বলি মানুষ? ধর্ম কি মানবতা শূন্য, না মানবতা ধর্ম শূন্য? শুধু কি ধর্মের কারণে এত নৃত্য? তবে কি ওরা মানুষ নয়, কেবলই ধর্মানুসারী।তাইতো আইএস হচ্ছে খুনি; ইসরায়েল হচ্ছে মুনি; আর মায়ানমার ঋষি এবং বাংলাদেশে জঙ্গি গড়ছে সঠিক আকিদা। শুনে রাখো ধার্মিক তোমরা; তোমাদের ধর্ম, শুন্য অন্তসার।

    অবশেষে বলবো আমার দেশ অতি ছোট্ট একটি দেশ। আমাদের পক্ষে এতো এতো মায়ানমার নাগরিকের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দূর্বল হওয়ায় অতি দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের একমত হতে হবে। এবং এদের বিদায়ে সুষ্ঠু সুন্দর পথ ও মত খুঁজে বাহির করতে হবে। আবারো বলছি: রোহিঙ্গাদের সঠিক তালিকা নিশ্চিত না করা হলে দেশে ঘনিয়ে আসতে পারে মহা-বিপদ। বর্তমানে অবস্থানরত সকল রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন নিশ্চিত করতে তাই সরকার ও প্রশাসনের নিকট জোর দাবী ও আহবান জানাচ্ছি।

    লেখক পরিচিতিঃ
    মাইন উদ্দিন (রাকিব)
    আইটি সম্পাদক, বিডি কারেন্ট নিউজ২৪
    প্রাক্তন ছাত্র, লোকপ্রশাসন বিভাগ
    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)