র‍্যাবের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অমূলক’ নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি ::

র‍্যাবের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আজ রোববার (২ জানুয়ারি) ২০২২ ইং দুপুরে সিলেটে জমজম নামের একটি এনজিও সংস্থার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন কালে তিনি এ কথা বলেন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে ১০ বছরে ৬০০ জন নিখোঁজের অভিযোগ তোলা হলেও আমেরিকায় প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ নিখোঁজ হচ্ছেন এবং পুলিশি কারণে হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমাদের এখানে সামান্য কিছু ঘটনা নিয়ে অনেক কথা হয়। বলা হয়, এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং, এসব হাসির খোরাক। ফলে আমার মনে হয় তাদের নিষেধাজ্ঞা সঠিক হয়নি। এটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।


গত বছরের ১০ ডিসেম্বর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বর্তমান-সাবেক কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। গত ৩১ ডিসেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন স্বাক্ষরিত এ চিঠি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।


ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, এর আগে ব্লিংকেনের সঙ্গে আমার ফোনালাপ হয়েছে। তখন যে কথা হয়েছিল সেগুলোই চিঠিতে লিখেছি। তিনি আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে তার সরকারের উদ্বেগের কথা জানিয়ে ছিলেন। চিঠিতে আমি লিখেছি, আমাদের এখানে গণতন্ত্র চর্চা আজকের নয়। যখন আমেরিকা আবিষ্কৃত হয়নি সেই ছয় শতকেও এ অঞ্চলে গণতন্ত্র ছিল। যদুকে জনগণ ম্যান্ডেট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল। ফলে গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক পুরোনো। আর আমাদের দেশের জন্মই তো গণতন্ত্রের জন্য। এগুলো আমাদের রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বছরের সম্পর্ক। সব কিছুর আলোকে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এখনো চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তারা এখন ক্রিসমাসের ছুটিতে আছেন। চিঠি এখনও তার হাতে পৌঁছেছে কি না সেটা জানি না।


জমজম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্বাহী পরিচালক মাহবুব সোবহানী চৌধুরী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সিনিয়র সচিব ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম আই চৌধুরী, অ্যারকেপিটার চিফ ফাইন্যান্স অফিসার আব্দুল মুঈজ চৌধুরী, জমজম টাওয়ারের জন্য ভূমিদাতা লন্ডন প্রবাসী লুৎফুন্নেছা রাজ্জাক, ভূমিদাতা যুক্তরাজ্যের কম্যুনিটি নেতা ইউসুফ সেলিম, জমজমের পৃষ্ঠপোষক নূরুন নাহার চৌধুরী, জমজমের পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরী, জমজমের পরিচালক রোটারিয়ান মোস্তাফা কামাল, জমজমের পরিচালক ডা. এম এ সালাম, সমাজসেবী জারনিগার চৌধুরী, সমাজসেবী জাহেদা ইউসুফ প্রমুখ।