লক্ষ্মীপুর জেলা ভূমি অডিট অফিসার “শাহেনশাহ” বিরুদ্ধে দুর্ণীতির অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের জেলার ভূমি অফিসের অডিটর হিসেবে কর্মরত শাহেনশাহ বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলার ভূমি সহকারি (তহসিলদারগন) এর অভিযোগ আনেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তহসিলদার গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন প্রতিবছর জুন থেকে আগামী জুন পর্যন্ত ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে অডিট হয়ে থাকে। আমাদের কর্মকর্তা শাহেনশাহ অডিটের নাম করে আমাদের কাছে বিরাট অংকের টাকা দাবি করে।

আমরা দিতে অস্বীকার করিলে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে, তাকে টাকা ছাড়া অডিট সম্পূর্ণ করা অসম্ভব। তাছাড়াও তহসিলদারগন অবসরে গেলে তাঁর কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকা দিতে হয়, না দিলে ছাড়পত্র পাওয়া যায়না। বেতন ও পেনশনের টাকা তোলা অসম্ভব। ভূমি সহকারি আরো জানান, গত কিছুদিন আগে একটি উপজেলা থেকে ৫টি খালি দাখিলা বই স্বাক্ষর করে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

গত বছর ২০১৯ইং সালে জুন ও জুলাইতে লক্ষ্মীপুর থেকে অডিটের নাম করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় তহসিল অফিস থেকে। তার মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর ২ লক্ষ টাকা, রামগঞ্জ ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা সহ রায়পুরের কেরোয়া ১৫ হাজার টাকা, বামনী ইউনিয়ন থেকে ১২ হাজার টাকা, এসিলেন্ড অফিসের নাজির রায়পুর ও রামগঞ্জ কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা, রাখালিয়া অফিস থেকে ২৫ হাজার টাকা, উত্তর চরবংশী ২০ হাজার টাকা, চরআবাবিল ২০ হাজার টাকা, পৌর তহসিল থেকে ২০ হাজার টাকা। এভাবে গেলো বছর লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এই অডিট কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভূমি সহকারি জানান, জুন মাস আসলে এ কর্মকর্তা টাকার জন্য বেপরোয়া হয়ে যায়। এই জুন মাসেও তিনি অডিটের নাম করে প্রত্যেকটা ভূমি অফিসে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে (০১৮১২১৮৮৪৯৪) এই নাম্বারে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিট অফিসার শাহেনশাহ এর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোনটি রিসিভ করে কথা না বলে কেটে দেন। পরক্ষনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।