লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দিন দিন বাড়ছে পান চাষ। নারিকের, সুপারী, সয়াবিন, আলু সহ অন্যান্য ফসলের চেয়ে পান চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকে যুঁকছেন পান চাষে। উপজেলা উত্তর, দক্ষিণ আবাবিল ইউনিয়ন, চরমোহনা, বামনী, কেরোয়া, চরপাতা বেশ কিছু ইউনিয়নে নিজস্ব জমিতে নিজ মেধা ও উদ্দ্যেগে পান চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা। বিঘা প্রতি পানের বরজে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা খরচ করে পরবর্তী বছর থেকে প্রতি বছর লাভ করছেন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। তবে উপজেলায় পান বিক্রি নির্ধারিত কয়েকটি বাজার রয়েছে তার মধ্যে রায়পুর পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকা হায়দরগঞ্জের বটতলা ও ক্যাম্পেরহাট বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে লাখ লাখ টাকার পান বিক্রি হচ্ছে।

পান চাষীরা জানান বরজে পান বড় হওয়ার সাথে সাথে তারা এসব পাইকারী বাজারে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি করতে পারছেন। চাহিদা বেশি থাকায় উৎপাদন করতে আনন্দ পাচ্ছেন কৃষকরা। এ উপজেলায় লাভজনক ফসল পানের চাষ বাড়াতে সার্বিক সহযোগিতা আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। রায়পুরের উত্তর ও দক্ষিণ আবাবিল ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পূর্ব পুরুষের পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে তপনপাল, ঘরমন, ওতুল চন্দ্র, মিলন চন্দ্র, ধিরেন রায়, কমলচন্দ্র সুশীল কুমার, নিমায় রায়, বিনয় রায়, উত্তম শাহা, নয়ন, মনকুমার দীর্ঘদিন ধরে পান চাষ করে যাচ্ছে। তাদের সফলতায় মোস্তাফিজুর, লুৎফর রহমান, ওসমান সহ চরপাতা ও কেরোয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের চাষীরা পান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে প্রতি বিঘা জমি প্রানের বরজের মাটির আইল, বেড়া, ছাউনি, শ্রমিক পানের লতাসহ এক লাখ প্রাথমিক অবস্থায় খরচ হয়। পরের বছর থেকে খরচ খুবই সামান্য হয়।

কারণ একটি পানের বরজ তৈরি করার পর মাটির আইল, বেড়া ছাউনি সংস্কার ছাড়া ৪০-৪৫ বছর পর্যন্ত পানের বরজ অক্ষুণœ থাকে। সেখান থেকে সবসময় পান পাওয়া যায়। বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত পানের ভড়া মৌসুম। ভাদ্র থেকে মাঘ পর্যন্ত পানের উৎপাদন কম হয়। ফাল্গুন মাসে বাড়ন্ত লতিকে নিচে নামিয়ে দেওয়াতে পানের উৎপাদন হইনা বল্লেই চলে।

একটি পানের বরজ থেকে উৎপাদন বেশি হলে ২ পোয়া (১২৮)টি পর্যন্ত পান পাওয়া যায়। বড় পান পুরাতন এক পোয়া তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। মাঝারি পান এক পোয়া এক হাজার পাচঁশ’ টাকা থেকে দুই হাজার পাচঁশ’ এবং ছোট পাচঁশ’ টাকা থেকে এক হাজার চারশ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রায়পুরে এক হাজার পাচঁশ’ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। লাভ বেশি খরচ কম হওয়ায় পর্যায়ক্রমে কৃষক পান চাষের দিকে ঝুঁকছে। কৃষি অফিস থেকে তাদের তদারকিসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।