শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট যুদ্ধে ফের জয়ের পথে আরিফ

ডেস্ক রিপোর্ট – আবারো শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে কাজ করে যাওয়া তরুন আরিফ হাটছেন জয়ের পথে৷

সম্প্রতি অনলাইনে পরিচালক সিহাব শাহিন ‘ পরিচালিত পুলিশ দম্পতি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তৈরি ওয়েব সিরিজ নিয়ে পোস্ট করেন বাংলাদেশের শিশু অধিকারকর্মী ও শিশু মুখপাত্র খ্যাত আরিফ রহমান শিবলী।

যেটা মুহুর্তে ই পোস্ট করায় আইনজীবী, চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’র উচ্চপর্যায়ের অফিসার, সাংবাদিক সহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের নজরে আসে।আরিফ তার নিজের পোস্ট বিষয়ে দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধবিরোধী আপত্তিকর কনটেন্ট ও অশ্লীল দৃশ্য পাশাপাশি শিশু অপরাধীকে রিমান্ড ধমক ও তার চলার পথে পুলিশের উপস্থিতি প্রচার করায় প্রশ্ন তুলেন?জাতিসংঘের শিশু সনদ ১৯৮৯ ও বাংলাদেশের শিশু আইন অমান্য করেছেন পরিচালক তাও তুলে ধরেন।

এরপর পর ই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউবে পরিবেশিত ওয়েব সিরিজগুলোতে থাকা দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধবিরোধী আপত্তিকর কনটেন্ট ও অশ্লীল দৃশ্য সরাতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ ই- মেইলে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির সাইবার পুলিশ ব্যুরোর অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর এ নোটিশ পাঠান। আইনজীবী জানান, অশ্লীলতার এসব দৃশ্য সরিয়ে সমাজের উঠতি বয়সীদের রক্ষার্থে জনস্বার্থে এ নোটিশ দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চেয়ে রিট আবেদন করা হবে।

নোটিশে বলা হয়, উপযুক্ত পর্যবেক্ষণ কিংবা সরকারের সঠিক তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইউটিউবে বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেশীয় সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজগুলোতে আপত্তিকর দৃশ্য বেড়েই চলেছে।

এগুলো দেশীয় সংস্কৃতির বিরোধী, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে ফৌজদারি অপরাধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী। আইনজীবী বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে ইউটিউবে ওয়েব সিরিজ ‘বুমেরাং’ ও ‘আগস্ট ১৪’ প্রচার হয়েছে, সেখানে আপত্তিকর দৃশ্য দেখা গেছে। এমনকি এসব ওয়েব সিরিজে সিগারেট কিংবা অ্যালকোহলের দৃশ্য পরিবেশনের সময় কোনো প্রকার সতর্কতামূলক বাণীও প্রচার করা হয়নি।

তাই এসব ভিডিও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০১৮-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা আমাদের দেশের সংস্কৃতি এবং সামাজিক নিয়ম শৃঙ্খলার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এ ছাড়া এসব নিয়ে কোনো নীতিমালা নেই। নোটিশে ওয়েববেজড সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণে পৃথক কোনো নীতিমালা তৈরি করা হবে না কি-না, তা নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

এই প্রতিবেদককে আরিফ বলেন, শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিতে এইবারও জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ইনশা আল্লাহ আরেকটা জয় পাবো খুব দ্রুত৷

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে ২০১৪ সালে উদ্যোগ নেন ইউনিসেফ ও সেভ দ্যা চিলড্রেনস প্রশংসা পাওয়া শিশু অধিকারকর্মী আরিফ রহমান।বাংলাদেশে পর্ণ সাইট বন্ধের মুল নায়ক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান দেশ সহ বিশ্বে।