শিশুরা ইন্টারনেট ব‍্যবহার করে শিক্ষাকে আরও কার্যকর করে তোলার কয়েকটি টিপস

এ ভয়াবহ দূর্যোগময় সময়ে আপনার সন্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ।

করোনা মহামারির সময় সবাই বাসা থেকে কাজ করছে শিশুরা গত একবছর বাসায় বসে অনলাইন ক্লাস করছে।কিন্ত মা-বাবা পাশে না থাকলে মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করে না। ২০২০ সালের মার্চ মাসের পর শিশুরা স্কুলে যায় নি বাংলাদেশ এ এখন আমরা শিশুর এই পড়ার অভ‍্যাস পরিবর্তন করতে পারি।

১ ) ছোট ছোট সিলেবাস ভাগ করে শেখান:
ছোট মানুষ স্কুলের শিক্ষককে বকুনি খেয়ে যাদের অভ‍্যাস বাসায় বসে তারা কখনও পড়তে চাইবে না এটা অভ‍্যাস করতে হলে ছোট মানুষ গুলো কে অনেক কিছু না পড়িয়ে ছোট ছোট সিলেবাস আকারে পড়ান এতে পড়ার আগ্রহ বাড়বে।বিভিন্ন সেশনের মধ্যে বিরতি দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে মন:সংযোগ বাড়ে ।

২ ) বাসায় রুম ভাগ করে কাজ করুন :
শিশুর এবং ওর বাবার যখন একই সময় অনলাইন মিটিং এবং ক্লাস হয় তখন এক ধরনের বিপত্তি দেখা দেয়।তাই ঘরে দুটো অংশে ভাগ করে হেড ফোন ব‍্যবহার করে একই সময় দুটি কাজ করা যেতে পারে।পড়ুয়ার জন্য একটা শান্ত জায়গা বাছার চেষ্টা করতে হবে, যেখানে মন বিক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ কম ।চেষ্টা করুন স্ক্রিন এমনভাবে অ্যাডজাস্ট করতে, যাতে খুদে পড়ুয়াটির অসুবিধে না হয় । কারণ অর্ধেক সময় তাকে একটা নির্দিষ্ট টেক্সট পড়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে, এবং এর ফলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও হতে পারে ।মেমোরি গেমের মতো ছোট ছোট কুইজ করার চেষ্টা করতে হবে এটা দেখতে, যে পড়ুয়ারা পড়া বুঝতে পারল কিনা । নিজে লক্ষ‍্য রাখা যায় শিশু পড়ছে নাকি দুষ্টামি করছে।

৩) একই পড়া বারবার পড়াতে হবে:
ছোট মানুষ তাই ওকে বার বার পড়াতে হবে,youtub অনেক ভিডিও বানানো আছে যে গুলো দেখে সহজে পরা মুখস্থ মা সাথে নিয়ে এমন ভিডিও এক সাথে দেখতে পারে।এতে শিশু মনে রাখতে সহজ হবে.কখনও কখনও ছোটরা বলে যে তারা বুঝতে পেরেছে, কিন্তু সঠিকভাবে খতিয়ে দেখার পরই বুঝা যায় তারা আসলে কতটা শিখেছে ।যদি সম্ভব হয়, প্রতিটা লেসন প্ল্যানে ভিডিও, গদ্য, কিছু মজার তথ্য বা ঘরোয়া পরীক্ষানীরিক্ষাকে হোম অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে দেওয়া যায় ।

৪)ঘরের জিনিস শিক্ষা উপকরণ হিসাবে ব‍্যবহার:
বাড়ির কিছু টুকিটাকি জিনিসের সাহায্যে শিক্ষক সোশাল সায়েন্স বা বিজ্ঞানের ধারণা দিতে পারেন ।ইংরেজি শেখানোর ক্ষেত্রে (যেহেতু পড়ুয়ারা টেক্সট আন্ডারলাইন করতে অভ্যস্ত) শিক্ষকরা টেক্সটের প্রয়োজনীয় অংশ হাইলাইট করতে পড়ুয়াদের সাহায্য করতে পারেন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজে বোঝা যায় ।হোয়াইট বোর্ডে বিষয়টার সারসংক্ষেপ লিখতে বলুন, যাতে পড়ুয়ারা কী বুঝেছে, সেটা দেখা যায় ।

৫) বাচ্চাদের ছোট সাফল্য উৎসাহ দিন:
ছোটো ছোটো সাফল্যের জন্য বাচ্চার প্রশংসা করুন । এতে কাজ হয় ।উপহার দিন বস্তু ভিত্তিক নয় একটু আদর করুন,ভালো কিছু রান্না করুন শিশুর জন‍্য। পছন্দ কোন ফুলের গাছ এক সাথে টবে লাগাতে পারেন।পাখি বা একুরিয়ামের মাছ উপহার দিতে পারেন।

৬) শ্রেণীকক্ষে পাঠদান বন্ধের প্রভাব থাকবে অনেকদিন:

বিভিন্ন পরিবারের দারিদ্রের কারণে শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার পরিসংখ্যান হয়ত পাওয়া যাবে বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে।কিন্তু বাংলাদেশে স্কুলের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান এমনিতেই বন্ধ রয়েছে তিন মাস হল। এপ্রিলের এক তারিখের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তা কবে হবে সে নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

জাতিকে মুখ‍্য হবার থেকে রক্ষা করি,শিশু দের নিজেরাই বই থেকে পড়াই অনেক বাবা মার ক্ষমতা বাহিরে দুটা smart phone তখন অনলাইন ক্লাস শিশু করতে পারে না শিক্ষকদের গ্রুপে সংযুক্ত হয়ে পড়া গুলো বাসায় নিজে পড়াই।শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড করোনার কারনে গোটা বিশ্ব আজ হুমকি মাঝে পড়ে যাচ্ছি। এগুলো বেশি না ভেবে শিশু শিক্ষা মানদণ্ড নিজের হাতে নিতে হবে।মা বাবা পরিবারের সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে এই মহামারির সময় হয়ত কেটে যাবে কিন্তু এই ক্ষতি সামলাতে হবে পরবর্তী প্রজণ্মকে।

আমাদের একা তৈরী না এই ভয়াবহ সমস্যা তাই হতাশ না হয়ে চেষ্টা করতে হবে।তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব।বসে থাকার ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে, যে বাচ্চারা শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিখতে অভ্যস্ত, তারা তাল মেলাতে পারছে না । যদিও মডিউলগুলো অনলাইন শিক্ষার নানা ধাঁচের দিকে নজর রেখেই করা হচ্ছে।শিক্ষার এই নতুন ধারা মারিয়া মন্তেশরি শিক্ষা ক্রমের কথা মনে করায় এটা অন‍্য লেখায় আলোচনা করব।শিশুদের করোনা মোকাবেলায় সাহায্য করতে হবে আমাদের, ভবিষ্যতে নতুন দিনে করোনা মুক্ত পৃথিবীতে আমার বাস করতে পারব ইনশাআল্লাহ,বাচ্চারা স্কুলে যাবে এই আশা করি আমরা।

শিশু মনোবিদ ও গবেষক
আফসানা ইয়াসমিন অর্থী।