সরকারের নির্দেশনায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে করোনা পরিস্থিতিতে আরও ৬৫ কয়েদীর মুক্তি

রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি : মহামারী করোনার অদ্ভুত পরিস্থিতিতে সংক্রমণের ঝুঁকি রোধে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের আরও ৬৫ জন কয়েদীকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

রোববার (৩ মে) ২০২০ ইং রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষ এ নির্দেশনা পেয়েছে। এর আগে শনিবার কারাগারের ৩৩ বন্দিকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেয়ে সেইদিন সন্ধ্যাতেই ১৭ জন কয়েদীকে মুক্তি দেয়া হয়। রোববার সন্ধ্যায় মুক্তি পায় আরও ২১ জন। এই নিয়ে দুই দিনে এই কারাগার থেকে মোট ৩৮ জনকে মুক্তি দেয়া হলো। এদের মধ্যে একজন নারী, বাকিরা সবাই পুরুষ কয়েদী।

এ তথ্য নিশ্চিত করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমিত (কোভিড-১৯) রোগের বিস্তার ঠেকাতে কারাগারের ভিড় কমাতে সরকার লঘু অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ রকম বন্দিদের তালিকা কিছুদিন পূর্বে কারা অধিদপ্তর সারাদেশের কারাগার থেকে নিয়েছিল। তালিকা পাওয়ার পর সারাদেশের ২ হাজার ৮৮৪ জনকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরো জানান, তিন ধাপে কয়েদীদের মুক্তি দেয়া হবে। এর মধ্যে শনিবার প্রথম ধাপে রাজশাহীর ৩৩ জন কয়েদিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তিনি চিঠি পেয়েছি। রোববার দ্বিতীয় দফায় আরও ৬৫ জনকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ এসেছে। এ দিন মোট ২১ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, যাদের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছর, কিন্তু ছয়মাস বা তারও বেশি সাজা খেটেছেন এ রকম কয়েদিদেরই সাধারণ ক্ষমায় সাজা মওকুফ করা হয়েছে। দুই দিনে রাজশাহীর ৯৮ কয়েদিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন বাড়ি চলে গেলেও মুক্তির অপেক্ষায় আছেন ৬০ জন। যারা মুক্তি পাচ্ছেন তাদের এ মামলায় আর কারাগারে যাওয়া লাগবে না। সাজা একেবারেই মওকুফ করে দেয়া হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, সরকার শুধুমাত্র কারাদণ্ড মওকুফ করেছে, জরিমানা মওকুফ নয়। অনেকেরই মামলার রায় ঘোষণার সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দিয়ে থাকেন আদালত। যাদের অর্থদণ্ড ছিলো না তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যাদের অর্থদণ্ড পরিশোধ করা নেই তারা যেতে পারছেন না। এখন ব্যাংক খোলা আছে, বন্দিদের স্বজনরা জরিমানার টাকা জমা দিলেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।

কারা কর্তৃপক্ষ সুত্রে আরও জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বন্দির স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারকদের টাকা চাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বন্দির স্বজনদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেউ টাকা চাইলেই তারা যেন না দিয়ে দেন। কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই যেন তারা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দেন। নচেৎ ধোঁকায় পড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।