সানির চিকিৎসায় পাশে দাড়ালেন মানবতার ফেরিওয়ালা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম

0
130

রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান: প্রায় চার মাস আগের কথা, বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিলো দ্বিতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী সানি আহম্মেদ। সড়কের একপাশ থেকে আরেক পাশে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান ধাক্কা দেয় সানিকে। রক্তাক্ত সানি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়, পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় সানির ডান পাটি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সানিকে নিয়ে যায় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, সানির পা ভালো করার জন্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার প্রয়োজন।

বংশীবাদক বাবা রুবেল আহাম্মেদ” বাঁশি বাজিয়ে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসার কোন মতে চলে যায়। কিন্তু চিকিৎসার জন্য তার পক্ষে এত টাকার জোগাড় করা সম্ভব নয়। তবুও প্রাণপন চেষ্টা ও স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে চিকিৎসা খরচ চালিয়ে যান। বাসা পরিবর্তন করে কম ভাড়ার আরেকটি বাসায় উঠেন।

শেষের দিকে চিকিৎসকরা জানান, সানির ডান পা সম্পূর্ণ সেরে উঠার জন্য আরো ৯০ হাজার টাকা দরকার। তবে ইতিমধ্যে ছেলের চিকিৎসার জন্য আর কোন উদ্বৃত্ত ছিলো না বাবা রুবেল আহম্মেদের হাতে। পুরান ঢাকার বাসিন্দা বংশীবাদক রুবেল আহম্মেদ এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে সানি আহমেদ দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। সে ক্লাশের ফাস্ট বয়” এই টুকুন বয়সে এত বড় একটি দূর্ঘটনা সহ্য করে হাসপাতালে দিন পার করছে।

মায়ের সাথে বলে মা আমি আর দুস্টামি করবো না। আমি আমার বোনের সাথে খেলবো, আমি আমার বন্ধুদের সাথে স্কুলে যাবো। বাবা রুবেল সন্তানের মুখে এমন কথাগুলো শুনে আর স্থির থাকতে পারেন নি। নিজের অক্ষমতা ঢাকতেই সম্ভবত মনের বিষাদে বাঁশি নিয়ে বেরিয়ে যেতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারু কলা ইন্সটিটিউটের পাশে বসে মনের দুঃখ চেপে রেখে বাঁশি বাজাতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বংশী বাদক রুবেলের বাবা লাবু মিয়া বাঁশি বাজাতেন ও বাঁশি বিক্রি করতেন।

এ খবরটি একটি অনলানি টিভির কল্যানে চোখে পড়ে মানবতার ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের। অনলাইন টিভিতে রুবেলের তথ্য প্রামান্যচিত্র পরিবেশিত হলো। কিন্তু রুবেলের অস্থায়ী-স্থায়ী ঠিকানা কিংবা যোগাযোগের কোন মাধ্যম ছিলো না। তবুও এই পরোপকারী দয়ালু পুলিশ কর্মকতা বংশীবাদক রুবেল আহম্মেদকে খুঁজতে লাগলেন। খোজা খুজির এক পর্যায়ে তাকে পেয়েও গেলেন।

বুধবার ৩০শে অক্টোবর ২০১৯ইং কুমিল্লা পুলিশ সুপার বংশীবাদক রুবেলকে ডাকলেন। বাবার সাথে স্ক্রেচে ভর দিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আসলো সানিও।

বংশীবাদক রুবেল আহম্মেদ যখন তার ব্যাগ থেকে বাঁশি বের করলেন তখন বাঁশি গুলোতে রুবেলের বাবা লাবু মিয়ার স্টিকার লাগানো ছিলো। পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ছো মেরে একটি বাঁশি নিয়ে বললেন এত দেখি লাবু মিয়ার বাশি, তুমি কোথা থেকে পেলে। বংশী বাদক রুবেল জানালেন, লাবু মিয়া আমার বাবা। পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এই লাবু মিয়ার থেকে রমনার ডিসি থাকাকালীন সময়ে কত যে বাঁশি কিনেছেন।

পরে রুবেলের মুখ থেকে দূর্ঘটনার বিস্তারিত শুনে ছেলে সানির চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা দিলেন। রুবেল কে কাছে নিয়ে বললেন যদি তারপরেও আরো কিছু প্রয়োজন হয় তাহলে যেন তিনি পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামকে জানান।

এবিষয়ে মানবতার ফেরিওয়ালা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, অতীতের তুলনায় আমাদের এখন সমাজের অনেকের আর্থিক স্বচ্ছলতা বেড়েছে। আর এই স্বচ্ছলতা কিংবা পেশাগত জীবনে যদি আপনার কাজকর্ম অন্যের কল্যানে কাজে না লাগে তাহলে এ জীবনের কোন স্বার্থকতাই নেই।

উল্লেক্ষ্য, বর্তমান কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম মুলত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। শৈশব থেকেই আর্তমানবতার সেবাই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, এই দয়ালু মহৎপ্রাণ মানুষটি। তিনি চাকুরির পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যানার্থে মানব সেবায় কাজ করার জন্য ইতি মধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান ও মানবতার ফেরিওয়ালা নামে ব্যাপক ভাবে পরিচিতি লাভ করেন।