সাহেদের প্রধান সহযোগী মাসুদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রতারণার মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের প্রধান সহযোগী এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমাম তার বিরুদ্ধে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেফতার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জামালপুরের লিটন মিয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেফতার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জামালপুরের লিটন মিয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাদীর আইনজীবী আমন ফেরদৌস জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মামলার আসামি মাসুদ পারভেজ সুইডেনে নিয়ে যাবেন বলে বাদী লিটনের কাছ থেকে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেন। টাকা নেয়ার পর মামলার বাদীকে জাল ভিসা ও টিকিট দেন। টিকিটটি নিয়ে বিমানবন্দরে গেলে তারা জাল বলে ফেরত দেন। এরপর মাসুদকে বিষয়টি জানিয়ে টাকা দেয়ার জন্য চাপ দেন মামলার বাদী লিটন। পরে মাসুদ বাদীকে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ও দুই লাখ ৯৫ হাজার টাকার দুইটা চেক দেন এবং ২০ লাখ ও পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকার দুইটা ডিট (দলিল) করেন। বাদী নিরুপায় হলে আজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে ২৬ জুলাই সাহেদের ২৮ ও মাসুদ পারভেজের ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী।

উত্তরা পশ্চিম থানার প্রতারণার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য থানা পুলিশ সাহেদকে উত্তরা পশ্চিম থানায় তিন ও উত্তরা পূর্ব থানায় প্রতারণার এক মামলায় ১০ দিন করে মোট ৪০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে মাসুদকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দুই ও উত্তরা পূর্ব থানায় প্রতারণার এক মামলায় ১০ দিন করে মোট ৩০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে চার মামলায় সাতদিন করে সাহেদের ২৮ দিন এবং তিন মামলায় মাসুদ পারভেজের সাত দিন করে ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ১৬ জুলাই সাহেদ-মাসুদ ও তরিকুলকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিনজনের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক এস এম গাফফার আলম। অপরদিকে তাদের আইনজীবী নাজমুল হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সাহেদ ও মাসুদের ১০ দিনের এবং তরিকুলের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জসিম।

করোনা চিকিৎসায় রিজেন্ট হাসপাতালের ভয়াবহ জালিয়াতি ধরা পড়ার পর ৮ জুলাই গ্রেফতার হন তরিকুল। ১০ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। মামলার ২ নম্বর আসামি মাসুদ পারভেজকে গাজীপুর থেকে গত ১৪ জুলাই গ্রেফতার করা হয়।

গত ৬ জুলাই র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালালে অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।