সিরাজগঞ্জ-পাবনা জেলার খামারীরা বিপাকে

0
65

ফারুক হাসান কাহার , শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: মিল্কভিটার আওতাভুক্ত সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার গো-খামার মালিকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ না করায় প্রায় ৪০ হাজার খামারী বিপাকে পড়েছেন। পানিতে দুধ ঢেলে তারা এর প্রতিবাদ করেছেন।

সোমবার সকালে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিল্কভিটা, আড়ং,প্রাণ,আকিজ ও ফার্মফ্রেশ কোম্পানির আওতাভুক্ত সমবায়ী কৃষক তাদের লক্ষাধিক গরু থেকে উৎপাদিত প্রায় ২ লাখ লিটার দুধ বিপনন না পেরে তারা চরম ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন। এ অবস্থায় তারা তাদের খামারের গবাদি পশু পালন ও নিজ পরিবারের আহার জোটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ সব গো-খামারী কৃষকের প্রধান আয়ের উৎস দুধ উৎপাদন করে বাজারজাত করা হলেও এই অবস্থায় তারা দুধ নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের এক খামারীরা দুধ বিক্রি করতে না পেরে ক্ষোভে বন্যার পানিতে দুধ ঢেলে ফেলে দিয়েছে। খামরীদের দাবী আমরা দুধ উৎপাদনে কোন অনিয়ম করি না। অথচ কেনো আমাদের দুধ নেয়া হচ্ছেনা। সরকারের কাছে দাবী যারা দোষ করেছে তাদের বিচার করা হোক। আর খামারীরা যারা সৎ উপায় অবলম্বন করি তাদের প্রতি যেন আদালত সদয় হয়।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ি গ্রামের গো-খামারী আব্দুস সামাদ ফকির বলেন, তার খামারে প্রাায় ১৫০টি গাভী রয়েছে। দৈনিক ৫০০ থেকে ৫৫০ লিটার মতো দুধ হয়। পাস্তুরিত দুধের উৎপাদন ও বিপনন বন্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে তার খামারেও উৎপাদিত দুধ নিয়ে তিনি চরম বিপাকে পরেছেন। তিনি বলেন,বিক্রির জায়গা না থাকায় এতো পরিমান দুধ নিয়ে এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা। এ ভাবে চলতে থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে। সামাদ ফকিরে মত একউ অবস্থা অঞ্চলের অধিকাংশ খামারীদের। কোম্পানি গুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বড়-ছোট মিলিয়ে প্রায় ১৪টি কোম্পানি এখন তরল দুধ সংগ্রহ ও বিপনন করে। সরবরাহ ভালো থাকলে দৈনিক ৭ থেকে ৮ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে কোম্পানি গুলো। ভরা মৌসুমে এর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। কোম্পানি গুলো যে দুধ সংগ্রহ করে, তার মূল কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা। তারা কৃষকদের প্রতি লিটার দুধের দাম দেয় ৩৬ থেকে ৪৫ টাকা। মূল্য নির্ভর করে দুধের ননির মাত্রার উপর। ওই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি অনেকটা এ দুধের উপর নির্ভরশীল। ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ার পর অনেক তরুণ উদ্যোক্তা খামার করেছেন। গড়ে ৪০ টাকা লিটার দরে ৮ লাখ লিটার দুধের দাম আসে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া চন্দ্রপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফ বলেন, আমার এলাকায় সবাই গো-খামারী সবার ঘরেই দুধের উৎপাদন আছে। হঠাৎ দুধ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় আমার এলাকার কোথাও দুধ বিক্রয় হচ্ছেনা। এখন আমরা খামারীরা এতো দুধ নিয়ে কোথায় যাব। বাধ্য হয়ে পানিতে ফেলেদিচ্ছি। শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ ওয়াজ আলী বলেন, সামনে কোরবানীর ঈদ। এখন হঠাৎ কোম্পানি গুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ করায় হাজার হাজার খামারীরা চরম বিপাকে পড়েছে। আমরা এখন কোথায় যাব। গরু গুলোকেই বা কি খাওয়াব। এতো দুধ প্রক্রিয়াজাত করা ছাড়া তো রাখা সম্ভব নয়। এদিকে গরুর থেকে দুধ দোহন না করলে তো গরু অসুস্থ হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা কারখানার ডিজিএম ডাঃ ইদ্রিস আলী জানান, আদালতের নির্দেশে আমরা দুধ সংগ্রহ ও বিপনন বন্ধ রেখেছি। আবার আদালতের নির্দেশ পেলে চালু করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের এ কারখানায় প্রতিদিন ১ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হলেও খামারীদের কাছ থেকে তা নেয়া হচ্ছেনা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর মিল্কভিটা সমিতি বিভাগের ব্যবস্থাপক অমিয় কুমার মন্ডল বলেন, আমাদের মিল্কভিটা শাহজাদপুর অঞ্চলেই মোট সচল দুগ্ধ উৎপাদকারী প্রাথমিক সমবায় সমিতি রয়েছে ৫৫০টি। এতে গোখামারী রয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার। দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভী রয়েছে ৭৫ হাজার। শুধুমাত্র মিল্কভিটার অন্তর্ভুক্ত প্রাথমিক সমিতির সদস্যদের কাছে থেকে প্রতিদিন ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে থাকে ।