সিলেটে টেলিমেডিসিন সেবা বনাম ডা. নাদিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  সিলেটে ডা. নাদিরা বেগমের টেলিমেডিসিন সেবা নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ দূর থেকে এভাবে রোগী দেখা কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকে তার ফি আদায় নিয়ে মন্তব্য করছেন। সবার আগে দেখা উচিত তার টেলিমেডিসিন সেবা সঠিক কিনা? টেলিমেডিসিন হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থানরত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগ নির্ণয় কেন্দ্র বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক ইত্যাদির সমন্বয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হলো টেলিমেডিসিন।

টেলিমেডিসিন দূরবর্তী প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের কষ্টসাধ্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করে ভ্রমন করে যাওয়া ছাড়াই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের থেকে সময়োপযোগী পরামর্শ পেতে, বিশাল চিকিৎসা খরচ বাচাতে এবং অহেতুক হয়রানি (দালালি, অতিরিক্ত টেষ্ট ইত্যাদি) থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। টেলিমেডিসিন সেবার জন্য প্রয়োজন একটি নিরদিষ্ট সেন্টার। সেই সেন্টারে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডা. রোগীর সাথে সম্পৃক্ত হবে। ডা. রোগীর সমস্যা গুলো শুনে তার চিকিৎসা করবে। সে ক্ষেত্রে ঐ সেন্টারে একজন দক্ষ প্যারামেডিকের প্রয়োজন। সে ডাক্তারের কথা মতো রোগীর তাপমাত্রা সহ অন্যান্য চেকআপ করবে।

শেষে ডাক্তারের দেয়া প্রেসক্রিপসন প্রিন্ট করে রোগীকে তার সেবা সম্পর্কে বুঝিয়ে দেবে। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০১৩ সালে টেলিমেডিসিন সেবা চালু করে। তাদের তথ্যমতে দেশের ১৮ টি হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে। তাদের বক্তব্য অনুসারে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ওয়েবক্যামেরা যুক্ত মিনি ল্যাপটপ কম্পিউটার দারা এ সেবা প্রদান করছে। এছাড়াও দেশের ২২টি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রেও টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া হচ্ছে স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগে বসে চিকিৎসকগণ বিনামূল্যে প্রতি কর্ম দিবসে এই সেবা দিচ্ছেন।

এখানে সিলেটের এমএজি ওসমানী হাসপাতাল ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম আছে। বাস্তবে কতটুকু দেওয়া হচ্ছে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। ডা. নাদিরা বেগমের টেলিমেডিসিন সেবা ঃ তিনি বলছেন সরাসরি রোগীর সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে সম্পৃক্ত হয়ে তার বক্তব্য শুনে, আগের প্রেসক্রিপসন দেখেন। প্রয়োজনে তাদের টেস্ট দেন। আবার ভিডিও কলের মাধ্যমে টেস্ট রিপোর্ট দেখেন। তার পর প্রেসক্রিপশন দেন। একজন প্রেগন্যান্ট নারীকে এভাবে চিকিৎসা দেওয়া কতটুকু সম্ভব তা একমাত্র তিনি জানেন। প্রেগন্যান্ট নারীর তাপমাত্রা দেখা, বাচ্চার হারটবিট শুনা, ক্ষেত্র বিশেষে আরো অনেক পরিক্ষা সরাসরি ডাক্তারকে করতে হয়। যেহেতু তিনি কোন সহকারীর মাধ্যমে রোগীর সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছেন না, রোগীর অন্যান্য পরিক্ষা অনুমান করে করছেন তাই তার এ চিকিৎসা টেলিমেডিসিন এর আওতায় পড়ে না। তার এটি অনলাইন পরামর্শ এর কাতারে পড়ে। দেশের এই দুরদিনে অনেক ডাক্তার বিনামুল্যে অনলাইনে রোগীদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

তার ৮২০ টাকা ফি নিয়ে সমালোচনা করা যায় তবে দেশের ডাক্তারদের পাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার ফি, কতজন রোগী প্রতিদিন দেখতে পারবেন কিংবা কোন ডায়াগনসিস সেন্টারে দেখতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সরকারকে নীতিমালা তৈরি করে তা কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে টেলিমেডিসিন সেবা খুব প্রয়োজন। এজন্য দেশের সকল কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে চালু করা উচিত। বেসরকারি ক্লিনিক, কিংবা ডাক্তাররাও এ সেবা চালু করতে পারে। তবে ডা. নাদিরা বেগমের মতো নয়। তারা বিভিন্ন ফারমেসি বা উদ্যোক্তাদের কমিশনের চিত্তিতে দক্ষ প্যারামেডিকদের সহযোগিতা নিয়ে এই সেবা চালু করতে পারে। এতে দেশের মানুষ প্রত্যন্ত এলাকায় থেকেও উন্নত সেবা নিতে পারবে

টেলিমেডিসিন সেবা আন্তর্জাতিক ভাবে চালু আছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি-২০১৭’ এ ‘ই-স্বাস্থ্য’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছে এই টেলিমেডিসিন সেবা।