সুনামগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান অপসারনের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবরে সদস্যর অভিযোগ দায়ের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৩নং ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হযরত আলী ওরফে(কালা চানঁ মিয়া)র বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও র্দূনীতির অভিযোগে এনে অনাস্থাসহ তার অপসারণের দাবীতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস বরাবরে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পরিষদের ৯জন ইউপি  সদস্যরা । 

রোববার দুপুরে ইউনিয়নের ১.২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ চানঁ বানু স্বাক্ষরিত এ অভিযোগপত্রে বাকি ৮জন সদস্য ও সদস্যার স্বাক্ষর সম্বলিত আলাদা অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হযরত আলী(কালাচাঁন)  চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহনের পর থেকেই বিভিন্ন সময় সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিডি,ভিজিএফ এর চাল বিতরণে পরিষদের ৯ জন সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে তার মনগড়াভাবে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে  উপকারভোগী কার্ডধারীদের মধ্যে (৩০কেজির জায়গাতে ২০/২২ কেজি) করে চাল দিয়ে বাকি সব চাল আত্মসাধ করেছেন।

ফলে বিভিন্ন ওয়ার্ডের অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিতরা সুষমও বণ্ঠন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান শুরু থেকেই জনগনের নিকট হতে টেক্রের টাকা আদায় করলেও পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের তিনি হিসাব নিকাশ দেননি এবং ৩জন মহিলা ইউপি সদস্যর সম্মানীভাতা না দিয়ে আত্মসাধ করেছেন। তিনি প্রায় সময়ই মহিলা সদস্যদের সাথে শ্লীলতাহানির চেষ্টার পাশাপাশি খারাপ আচরণ করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। চেয়ারম্যান পরিষদের সিদ্ধান্ত একা নিয়েই ভিজিডির ভাতা ভোগীদের সঞ্চয়ের টাকার কোন হিসেব পরিষদের সদস্যদের নিকট দিতে রাজি নন।

এছাড়াও তিনি প্রায় সময়ই সরকারের নীতিমালা লংঘন করে তার একক সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরিষদ পরিচালনা করায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের অবহেলিত ও সেবা বঞ্চিত জনসাধারন সরকারের বরাদ্দকৃত চাল ও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ফলে চেয়ারম্যানের অনিয়ম  ও র্দূনীতির বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে তাকে অপসারনের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাবী জানান। 

এ সময় অন্যান্য স্বাক্ষরকারী সদস্যগণ হলেন,২নং ওয়ার্ডের সদস্য রেহেনা পারভীন,৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মনোয়ারা খাতুন,১নং ইউপি সদস্য মোঃ ইউনুছ আলী,২নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান, ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ হেনু মিয়া চৌধুরী, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ অহিদ মিয়া, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ হাছেন আলী প্রমুখ।
এ ব্যাপারে ৩নং ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হযরত আলী কালাচানঁ এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি ।

এ ব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

উল্লেখ্য ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত ২১ মে সরকারের বরাদ্দকৃত উপকারীভোগী ৫৭৩ জন ভিজিডির কার্ডকারী প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলে ও চেয়ারম্যান প্রতিজনকে ২০,২২ ও ২৫ কেজি করে ওজনে চাল কম দেয়ার পাশাপাশি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন একজন উপকারভোগী কার্ডধারীকে ওজনে চাল কম দেয়ার পর ঐ কার্ড দিয়ে তাদের পছন্দের অন্য লোকজনকে দিয়ে চাল উত্তোলন করে নেওয়ার সময় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মোছাঃ চানঁ বানু প্রতিবাদ করলে এতে চেয়ারম্যান ও তার বলয়ের ইউপি সদস্য মোঃ নিজাম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ  লুঙ্গী উঠিয়ে বার বার দেখানোসহ তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।

এ সময় চেয়ারম্যান ৩জন মহিলা সদস্যকে ইউনিয়ন অফিসের উপরে ডেকে নিয়ে তাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো পাশাপাশি চেয়ারম্যান বলতে থাকেন দেখি তোমরা আমার কি করতে পার বলে হুমকি প্রদান করেন।