সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গোরস্থানের রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা

নাইম তালুকদার, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নে অতি-দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের ‘কর্মসৃজন কর্মসূচি’ একটি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিরাই উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার বরাবর এই প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ করেন সোয়াতিয়র গ্রামবাসীর পক্ষে রুমান মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় বিগত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে অতিদরিদ্রের জন্য কর্ম সংস্থান কর্ম সূচির আওতায় ০৯ নং কুলঞ্জ ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৭,৮, ও ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য শিল্পী রানী বর্মন কে সোয়াতিয়র মেইন রাস্তার হইতে কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা পুনঃ নির্মাণ করার জন্য ২৩ টি জব কার্ডের পরিবর্তে ১,৮৪,০০০/- বরাদ্ধ দেওয়া হয়, কিন্তু রাস্তাটি উল্লেখ্য স্থানে পুনঃ নির্মাণ না করে অন্য আরেকটি নতুন রাস্থা নির্মাণ করার হয়েছে।

যেখানে পাশেই আরেকটি রাস্তা আছে।যার পুর্ননির্মানের জন্যেই এসেছিল বরাদ্ধ। অভিযোগ সূত্রে আর জানা যায় তালিকাভুক্ত শ্রমিক দ্বারা কাজ না করিয়ে একটি ব্যবসায়ী মহল দিয়ে কাজ করানো হয়ছে।এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি অত্র কুলঞ্জ ইউনিয়ন ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড মহিলা সদস্য শিল্পী রানী বর্মন’র কাছে প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন আমাদের পরিষদ থেকে যেমন বলা হয়েছে সেই মত কাজ করেছি। জনগনকে প্রকল্প সম্পর্কে জানানোর জন্যে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে কি না ?

জানতে চাইলে তিনি বলেন সাইনবোর্ড টানানো লাগে কি না সে বিষয় আমার যানা নেই।এর আগেও কাজ করিয়েছি কিন্তু সাইনবোর্ড টানানো লাগে কি না জানিনা।আপনার কিছু জানার থাকলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে ফোন দিন। অভিযোগর বিরুদ্ধে আমার কোন কিছু বলার নাই এলাকার মানুষজন বলবে। আমি সব নিয়মনীতি মেনেই কাজ করেছি।মঙ্গলবার সরেজমিনে প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

প্রকল্পের রাস্তার প্রবেশপথে বেড়া দিয়ে পুরো রাস্তায় চাষ করা হচ্ছে শাক- সবজি।যেখানে রাস্তার জন্য বরাদ্ধ ছিল ১,৮৪,০০০/- টাকা সেখানে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মাটি কেটে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি এবং রাস্তাটি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কোন লেবার দিয়ে কাজ করতে দেখেনি বরং করানো হয়েছে ট্রলি (ইঞ্জিন চালিত গাড়ি) দিয়ে স্থানীয় এলাকার প্রায় ১০-১৫ জন ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কবরস্থানে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা থাকা অবস্থায় পাশে আরেকটি রাস্তা নির্মাণ করে সরকারে টাকা অপব্যয় ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা। সরকার যে উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নসহ ছোটবড় দুর্নীতি দিনদিন বেড়েই যাবে ,মূলত রাস্তাটি কয়েকটা পরিবারের সুবিধার্থে করা হয়েছে তা নাহলে রাস্তার প্রবেশপথ বন্ধ করে শাক-সবজি চাষ করা হত না, রাস্তা বেড়া দেওয়া থাকত না।

এই কাজের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন আমরা পরিষদ থেকে রেজুলেশন করে কাজটি করার অনুমতি দিয়েছি।সরকারের টাকায় উন্নয়নের জন্যে কাজ করে যাচ্ছি।যেহেতু অভিযোগ উঠেছে তাই তদন্ত রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় আছি।

এই বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সমাজ সেবা অফিসারকে ফোন করলে উনি বলেন আমি আমার রিপোর্ট ইউ এন ও বরাবর জমা দিয়েছি।এই ব্যাপারে দিরাইযের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকতার বক্তব্য নিতে ফোন দিলে উনার ফোনটি রিসিভ হয় নি