সুনামগঞ্জে হাওর রক্ষা বাধ নিয়ে শংকিত কৃষক

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষকদের একমাত্র ভরসা বোরো ফসল। সরকার বোরো ফসল রক্ষার্থে ক্রুটিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার ও ক্লোজার (ভাঙ্গা) মেরামত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য সময়-সীমা বেঁধে দেয়। কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৫০টি বাঁধের মধ্যে ৯টি বাঁধের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। ফলে উপজেলার দেখার হাওর, সাংহাই হাওর, কাচিভাঙ্গা হাওর, জামখলা হাওর ও খাইহাওরের কৃষকদের ২২ হাজার হেক্টর জমির একমাত্র বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দেখার হাওরের হলদির খাড়া, উতারিয়া, পাথালিয়া, জামখলা হাওরের জামখলা বাঁধ, খাই হাওরের রাঙ্গামাটি কিছু অংশে বাঁধের কাজ শুরু হলেও পূর্ব বীরগাঁও,পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ১৮টি পিআইসির মধ্যে দুই-একটি ছাড়া বেশির ভাগেরই এখনো মাটি কাটা শুরু হয়নি। পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে প্রকৃত  কৃষকদের বাদ দিয়ে অনেক পি অাইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের এক কৃষক জানান,আমাদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম নিজ পকেটের লোকজনদের কে  নিয়ে কমিটি দিচ্ছেন। এদের কোন হাওরে জমি এই নাই ওরা বাধের কাজ সম্পন্ন করবেন কিভাবে। এখন পর্যন্ত আমাদের বাধের কাজ শুরুই হয়নি। চেয়ারম্যান সাহেব নিজ অর্থ হাসিলের জন্য তিনি এসব করছেন। আর চেয়ারম্যান সাহেবদের লোক বাধে কাজ করলে হবে না করলে ও চলবে। আমরা গরীব কৃষক মানুষ আমাদের কি আর করার আছে। 


অনেক পিআইসির সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, কেউ কেউ এস্কেভেটর যন্ত্রের অপেক্ষায় আছেন। কারো কারো বাঁধের পরিমাপ করে দেওয়া হয়নি, আবার কারো কারো মেশিন নষ্ট। পশ্চিম বীরগাঁও সাতটি পিআইসির সাইনবোর্ডও লাগানো হয়নি। এছাড়া ডিজিটাল সাইনবোর্ড দিলেও সাইনবোর্ডে জায়গার দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা লেখা না থাকায় যারা কাজ পরিদর্শনে যান, তাদের কি পরিমাণ কাজ হচ্ছে তা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে।
বোরো মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল হলে মহাসিং নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি। যা পানির প্রথম ধাক্কায় বাঁধগুলো হুমকির সম্মুখীন। পিআইসির মাধ্যমে যে কাজগুলো হচ্ছে তা বর্তমানে অগোছালো অবস্থায় আছে। ড্রেসিং করা হচ্ছে না অধিকাংশ বাঁধেরই। পাউবোর নিয়ম অনুযায়ী, যে মাপের ভিত্তিতে কাজ করার কথা ছিল সে অনুযায়ী কিছু কিছু পিআইসি কাজ করলেও অধিকাংশই তা মানছে না। তাছাড়া বাঁধের একেবারে কাছ থেকেই বড় বড় গর্ত করে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে বাঁধে দিচ্ছে। ফলে এসব বাঁধ কতটা টেকসই হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


বিগত বছরগুলোতে বিপজ্জনক যে বাঁধগুলো দিয়ে হাওরে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে গিয়েছিল এবারো সেই অংশগুলোই বিপজ্জনক বলে মত প্রকাশ করছেন অনেক কৃষক।


সরকার প্রতিবছর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও বিগত বছরগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু সুযোগ সন্ধানী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির করে। এ কারণে সময়মতো সুনামগঞ্জ জেলার হাওর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে লুকোচুরি করায় বাঁধ নির্মাণ টেকসই হয়নি। এছাড়া বাঁধা নির্মাণে কালক্ষেপণ করায় আগাম বন্যায় কৃষকদের ফসল হারাতে হয়েছিল।


কৃষকরা আরও জানান, কাজের এই ধীরগতি চলমান থাকলে আগাম বন্যার কবল থেকে তাদের ফসল রক্ষা করতে পারবে কি না এ নিয়েও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরোদমে কাজ শুরু না হওয়ায় আদৌ সময়ের মধ্যে কাজ হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কায় আছেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা।


উপজেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার চলতি বছর নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ দিলেও কাজের প্রাক্কালন করতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরুর কথা ২৩ ডিসেম্বর হলেও কাজ শুরু হয় জানুয়ারির প্রথম দিকে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।