‘স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং তামাক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার’

তামাকপণ্যের স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং হতে পারে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে নতুন সম্ভাবনা। তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা হ্রাস হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর বৃদ্ধিতে অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে এই মোড়ক।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ”স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং: প্রতিবন্ধকতা ও বাস্তবায়নে করণীয়” শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে একথা বলেন বক্তারা। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি)-এর আয়োজনে উক্ত ওয়েবিনারে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সচিবালয়ে কর্মরত সৈয়দা অনন্যা রহমান স্ট্যান্ডাড প্যাকেজিং টোব্যাকো ইন্ড্রাট্রির হস্তক্ষেপে কি ধরনের ভুমিকা রাখতে পারে সেই বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, এই মডেলটি বাস্তবায়নে তামাক কোম্পানি অনেক ধরনের বাঁধা তৈরি করবে, এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্যাকেট ওর্য়ানিং এর ক্ষেত্রে যেমন কোম্পানিগুলো নিজেদের সুবিধার দিকটাই গুরুত্ব দিয়েছে, সেই সুযোগটি তাদেরকে আর দেওয়া যাবে না। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবেই আমাদের এ মডেলটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিসিআরসির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও গবেষণা সহকারী ফারহানা জামান লিজা।

উপস্থাপনায় তিনি স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং-এর প্রয়োজনীয়তা এবং এর কাঠামো তুলে ধরেন। এছাড়াও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং-এর বিভিন্ন সুবিধা এবং সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা তিনি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাস্তবায়ন হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে আমরা আরো একধাপ এগিয়ে যেতে পারবো। সহজতর হবে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মনিটরিং এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিতসহ তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা হ্রাসে সচেতনা বৃদ্ধিও কাজ করবে এই মডেল।
আর্ন্তজাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর কান্ট্রি ম্যানেজার মোঃ নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। তবে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে এই আন্দোল কে আরো জোরদার করতে হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের সোস্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগাতে হবে এবং পাশাপাশি প্রেস মিডিয়াকেও এগিয়ে আসতে হবে।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাষ্টের পরিচালক গাউস পিয়ারি মুক্তি, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানীর সঠিক বাস্তবায়নে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। সেই সাথে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাস্তবায়ন হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআই-এর বাজার মনিটরিং-এর ক্ষেত্রে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আদায়ে একটি রোল মডেল হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব হেলাল আহমেদ বলেন, একটা সময় কেউ ভাবতে পারেনি যে, তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী আসবে। কিন্তু আমরা আশা ছাড়িনি, আন্দোলন চালিয়ে গেছি। আজ প্রতিটি তামাক পণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী এসেছে।

স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং এর ক্ষেত্রেও অনেকেই এটাকে অসম্ভব বলবে, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাস্তবায়ন হবেই।
সমাপনী বক্তব্যে টিসিআরসির সদস্য সচিব ও প্রকল্প পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মোঃ বজলুর রহমান বলেন, আমরা বিগত প্রায় চার বছর ধওে এটি নিয়ে কাজ করে চলেছি। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দূর্বলতা বের করতে গিয়েই আমরা বুঝতে পারি এই স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং এর প্রয়োজনীয়তা। তখনই আমরা এই মডেলটি তৈরি করি এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সহ একটি আলোচনা সভার মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে আমরা এই মডেলটি প্রস্তাব করি। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং এ আমরা পাইনিয়নের ভুমিকা পালক করেছি, তবে ইতোমধ্যেই তা জনহপকিন্স ইউনিভার্সিটির নজর কেড়েছে। তারাও আমাদেও মডেলটি নিয়ে কাজ করছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং মডেলটি ইতোমধ্যেই জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে করোনা মহামারীর কারণে এটি বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হলেও আশা করা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই এটি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে।

টিসিআরসির প্রজেক্ট অফিসার মোঃ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনোমিক রিসার্চ-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটির এ্যাডভোকেসি ম্যানেজার খন্দকার রিয়াজ হোসেন, এইড ফাউন্ডেশনের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আবু নাসের অনিক, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রজেক্ট অফিসার আবু রায়হান, নাটাবের প্রতিনিধি কানিজ ফাতেমা রুশিসহ আরো অনেকে।