হাজীগঞ্জে অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ২ মামলা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্: অনলাইন হ্যাকিং ও প্রতারনার অভিযোগে হাজীগঞ্জ থেকে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতারের ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় দুইটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-১১ বাদী হয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে এই দুইটি মামলা (নং- ২৬ ও ২৭) দায়ের করে। মামলা দুইটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন, হাজীগঞ্জ
থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ। প্রথম মামলায় (নং-২৬) ৬ জনকে আসামী করা হয়। এর মধ্যে শাহাদাৎ হোসেন
শিহাব (২৫) ও মো. মাহবুবুল আলম আবির (২৫) নামক দুই জনকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করে র‌্যাব। অপর চার আসামি পলাতক রয়েছে। তারা হলো, রাব্বি, সোয়েব পাটওয়ারী, তুষার ও সৌরভ।

দ্বিতীয় মামলায় (নং-২৭) ২ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে মাইনুল ইসলাম (২৫) কে হাতে-নাতে গ্রেফতার করে র‌্যাব। অপর আসামি সৌরভ পলাতক রয়েছে। শুক্রবার গ্রেফতার কৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে (বুধবার দিবাগত রাতে) অনলাইন হ্যাকিং ও প্রতারনার অভিযোগে র‌্যাব-২ ও র‌্যাব- ১১ এর যৌথ অভিযানে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন
৯নং ওয়ার্ড কংগাইশ গ্রাম থেকে শাহাদাৎ হোসেন শিহাব, মাইনুল ইসলাম ও মো. মাহবুবুল আলম আবিরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মো. শাহাদাৎ হোসেন শিহাব ওই গ্রামের মো. জাকির হোসেন বেপারীর ছেলে, মো. মাইনুল ইসলাম একই গ্রামের মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে ও মো. মাহবুবুল আলম আবিরও একই গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে। এbসময় তাদের কাছ থেকে হ্যাকিং কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল,
পাসপোর্ট, পেনড্রাইভ, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, চেক বই ও নগদ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯’শ টাকা উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব- ১১ প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এবং র‌্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে (বুধবার দিবাগত রাতে) হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন কংগাইশ গ্রামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অনলাইন হ্যাকিং প্রতারক চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা।

এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, পার্সপোর্ট, পেনড্রাইভ, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেক বই উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহকৃত নগদ ২,৩৯,৯০০ (দুই লক্ষ ঊনচল্লিশ হাজার নয়শত) টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের
অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম সমূহ ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা, বিভিন্ন বিল পে
করা, বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি পেমেন্ট ডিসকাউন্ট
অফার করে প্রতারণা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে প্রেস রিলিজে জানান, র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানী অধিনায়ক (উপ-পরিচালক) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব।

প্রেস রিলিজের স্মারক নং-র‌্যাব-১১/৯৫০৬/অপস। এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন
রনি বলেন, উল্লেখিত ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে দুইটি মামলা দায়ের করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।