হাজীগঞ্জে রাতের পর দিনও শেষ, তবু লাশ পড়ে রইলো

হাজীগঞ্জে আবুল কালাম (৫৫) নামক একজন খলিফা (পোশাক সেলাইকারী) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মারা গেলেন। রাত ফেরিয়ে এখন দিনেরও শেষ পর্যায়ে, কিন্তু এখনো তার মৃতদেহের দাফন করা হয়নি।

এলাকায় যারা দাফন-কাপন কাজে জড়িত, তারা কেউ এগিয়ে আসেনি। পরিবারের লোকজন বার বার তাদের কাছে ছুটে গিয়েছেন কিন্তু করোনা সন্দেহে সবাই ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফলে বাড়ির উঠানেই মৃতদেহ পড়ে রইলো। 

নিহত আবুল কালাম উপজেলার ২নং ইউনিয়নের বাখরপাড়া গ্রামের পুরান বাড়ীর মৃতু আবদুল মতিনের ছেলে। তিনি করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গে নয়, তিনি শারিরিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারনে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটওয়ারীর সহযোগীতায় নিহত আবুল কালামের দাফনের ব্যবস্থা করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া। তিনি ইসলামীক ফাউন্ডেশন উপজেলা সুপারভাইজারকে নিহতের দাফনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন। 

এদিকে আজ দুপুর পর্যন্ত উপজেলায় করোনা উপসর্গে নিহত তিনজনকে দাফন করেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাজীগঞ্জ উপজেলা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা।

কমিটির টিম প্রধান ও বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাও. যোবায়ের আহমাদ এর নেতৃত্বে মরদেহগুলো দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন, পৌর যুবদলের আহবায়ক আব্দুল আউয়াল, বাকিলা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোবাশ্বের মোল্লার মেয়ে মিথিলা ও বড়কল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামের গ্রামের দুলাল। 

এর মধ্যে করোনা ভাইরাসে ঢাকা মেডিকেলে মিথিলা এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে আব্দুল আউয়াল সর্দার ও দুলাল মিজি নিজ বাড়ীতে মৃত্যুবরণ করেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া জানান, উপজেলায় যদি কোথাও মৃত ব্যক্তির দাফনে সমস্যা হয়, তাহলে সাথে সাথে আমাকে জানালে আমরা প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্/ হাজীগঞ্জ/ চাঁদপুর/