৫৮ বছরে সম্পত্তি বুজে না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ\ তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি)

জাকির হোসেন সৈকত,ফরিদগঞ্জ: দীর্ঘ ৫৮ বছরেও ক্রয়কৃত সম্পত্তি বুজে না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেন ফরিদগঞ্জের আ.রশিদ। এ বিষয়ে গত ৬ জুলাই সোমবার সরেজমিন তদন্তে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার।

    সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, ১৯৬২ সালে আব্দুর রশিদ তালুকদার ৯৫ (বাড়ী) দাগে দেঢ় শতাংশ করে হাসমত আলী, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান ও ছিদ্দিক তালুকদারের কাছ থেকে ৬ শতাংশ ভূমি খরিদ করেন।  আব্দুর রশিদ তালুকদার এই ৬ শতাংশের মধ্যে ২ শতাংশ মসজিদকে দান করে যান। দুই শতাংশের মধ্যে ঘর করেন। কাগজে কলমে ৬ শতাংশ হলেও দীর্ঘদিন তারা ৪ শতাংশ ভোগ দখল করে আছে। বাকী ২ শতাংশ বুজিয়ে দিচ্ছেন না বিক্রেতা ছিদ্দিক আলী তালুকদার (পিতা- মৃত নজমদ্দিন)। অথচ ঐ দাগে পতিত জমি পড়ে রয়েছে। আ.রশিদ গংদের উক্ত ভূমি দখল করতে বাদা দিচ্ছে তারা।   

    দীর্ঘ সময় ধরে বহু দেন দরবার এবং ঝড়গা বিবাদ করেও ক্রয়কৃত ভূমি দখল করতে ব্যর্থ হয়ে আব্দুর রশিদ চলতি বছরের মার্চ মাসে অতিরিক্ত জেলা ম্যাাজিস্ট্রেট আদালত, চঁাদপুরে মামলা করেন। দরখাস্ত মামলা নং ৩৬০/২০২০ (১৪৫ ধারা)। উক্ত মোকদ্দমার প্রেক্ষিতে গত ৬ জুলাই সোমবার বিকালে ভূমির মালিকানা ও দখল সম্পর্কে সরজমিনে তদন্ত করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার। এ সময় তিনি ভূমির বর্তমান স্থাবর সম্পত্তি সার্ভে করে যান। 

    এ বিষয়ে ভূমি বিক্রেতা ছিদ্দিক আলী তালুকদারের সাথে কথা বললে তিনি জানান,‘তাদের ভূমি ঠিকই বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঐ দাগে যে সামান্যটুকু কম আছে, তা পথ এবং পুকুরের সাথে দিয়েছি। কারণ তার তো পুকুর ব্যবহার করতে হবে। আর ঐ দাগে আব্দুর রশিদ একটি মসজিদ করে নিজ দায়িত্বে নির্মাণ করে গেছেন। সেখানে তাদের বাকী সম্পত্তিটুকু রয়েছে।’

    মামলার বাদী আ.রশিদের বড় ছেলে বেলাল সাংবাদিকদের বলেন,‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ক্রয়কৃত ভূমি উদ্ধারের বহু চেষ্ট করেছি। বাড়ির সবাইকে বলেছি কিন্তু কেউ আমাদেরকে সহযোগিতা করেনি বরং বিরোধীতা করেছে। আমার বৃদ্ধ বাবাকে মেরেছে। একপ্রকার বাধ্য হয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। আমাদের সম্পত্তিটুকু সঠিক মাপ জরিপ করে বুজিয়ে দেওয়ার দাবী করছি। আপনারা গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে আমাদেরকে সহযোগিতা করেন।’