চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণ অতঃপর

0
145

নিউজ ডেস্ক: চলন্ত বাসে এক নার্সকে ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় স্বর্ণলতা নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে জামতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতার নাম শাহিনুর আক্তার তানিয়া। তাকে ধর্ষনের পর হত্যা কারা হয়। নিহত শাহিনুর আক্তার ওরফে তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউপির বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে ও ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম, সোমবার বিকেলে তিনি এয়ারপোর্ট কাউন্টার থেকে টিকেট নিয়ে স্বর্ণলতা পরিবহনে ওঠেন। স্বর্ণলতা বাস মহাখালী-থেকে কটিয়াদী হয়ে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলাচল করে। পিরিজপুর থেকে তার বাড়ির দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা। বিকেলে বাসে ওঠার পর থেকে বাবা এবং ভাইদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা হয় শাহিনুরের। রাত ৮টার দিকে তিনি যখন মঠখোলা বাজার অতিক্রম করেন তখন তার বাবাকে জানিয়েছেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন। তার বাবা তখন এশা এবং তারাবির নামাজের জন্য মসজিদে যাচ্ছেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসটি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তখনো ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় শাহিনুরের। বলেন, আর মাত্র পাঁচ-সাত মিনিট লাগবে পিরিজপুর পৌঁছাতে।

ওসি আরো বলেন, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে বাসের সমস্ত যাত্রী নেমে যায়। কিন্তু গাড়ির ড্রাইভার এবং হেলপার কৌশলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের সঙ্গের চার-পাঁচজনকে যাত্রীবেশে গাড়িতে তোলেন। কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী ভৈবর-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গজারিয়া জামতলী নামক নীরব জায়গায় শাহিনুরকে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর রাস্তায় ফেলে দেয়। সেখান থেকে এলাকাবাসী তাকে কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শাহিনুরের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন আল আমিন, বাবা ওয়াহিদুজ্জামান, গ্রাম ভেঙ্গারদি, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজরীনা তৈয়ব বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে কটিয়াদী থানা পুলিশকে জানানো হয়। তানিয়ার ঠোঁট, গলা ও বুকসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ওসি (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তানিয়ার মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে বাসের চালক নূরুজ্জামান ও হেলপার লালন মিয়াসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাসচালক ও হেলপার জানায় মেয়েটি বাস থেকে লাফিয়ে পড়েছে। তবে তাদের জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জের এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিরত

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপানার নাম লিখুন