চাঁদপুরে বিশ্ব কবুতর দিবস পালিত

0
118

চাঁদপুর : ১৩ জুন বিশ্ব কবুতর দিবস। সারাবিশ্বে এ দিবসটি ব্যাপকভাবে পালিত হলেও বাংলাদেশে বেশ কয়েকবছর ধরে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে এদেশের কবুতর প্রেমিরা।

তাই সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও পালিত হয়েছে দিবসটি। এই দিবস পালনে নেই কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড, নেই কোন আন্দোলন, নেই কোন মিছিল, নেই কারো স্বার্থ । কবুতর দিবস পালনে কবুতরপ্রেমীদের স্বপ্ন এটাই যে, পৃথিবীজুড়ে জাতি, ধর্ম ,বর্ণ নির্বিশেষে শান্তির প্রতিক ভালোবাসার পাখিকে ছড়িয়ে দিবো সবখানে ।

চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত রেলির আয়োজক “চাঁদপুর পিজিওন লাভার গ্রুপের” প্রধান এডমিন ফিরোজ আলম বলেন – কবুতর পালন শখের বসে বিনোদন কেন্দ্রিক হলেও এর রয়েছে বানিজ্যিক সম্ভাবনা। এছাড়াও যে মাদকের বিরুদ্ধে আমরা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেও পেরে উঠছিনা তা এই কবুতর পালনের মাধ্যমে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। উঠতি বয়সের যুবসমাজের শখের চর্চায় কবুতর বা অন্যান্য পাখি পালনে উদ্ভুদ্ধ করতে পারলে বিনোদনের পাশাপাশি অবসরের সঙ্গী হওয়ায় মাদক, বাজে আড্ডা ও নেতিবাচক মনোভাব তৈরির সুযোগ হবেনা।

অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির আরেক সদস্য মোঃ সাঈদ উদ্দিন শিকদার বলেন – কবুতর আমাদের ভালোবাসার পাখি। এ পাখি নিয়ে আমাদের স্বপ্ন অনেক। আপনি যত বেশি মানুষ চিনবেন পাখির প্রতি ভালোবাসা আপনার তত বাড়বে। যুব সমাজ এই পাখি পালনের দিকে ঝুঁকছে। যার ফলে বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় বেশিরভাগ জাতের কবুতর এদেশে পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য প্রতি পেয়ার ৫শ টাকা থেকে ৫লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এডভোকেট খোরশেদ আলম মানিক বলেন – কবুতর সেক্টরকে সরকারি পৃষ্ঠপোসকতার মাধ্যমে আরো বেগবান করলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে এদেশের যুব সমাজ। অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের বিপুলসংখ্যক কবুতরপ্রেমী রংবেরঙের বিচিত্র কবুতর নিয়ে রেলিতে অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত, প্রত্যেক দিবসের পেছনে কোন না কোন ঘটনা বা ইতিহাস থাকে। ১৩ই জুন কবুতর দিবস এর পেছনেও রয়েছে সেরকম ঘটনাবহুল ইতিহাস। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুপক্ষ এবং মিত্রপক্ষ উভয়েই ব্যপকহারে রেসার হোমা কবুতর ব্যবহার করেছে। তখন ছিলোনা মোবাইল ফোন, ডাক ব্যবস্থাও তেমন গতিশীল ছিলনা, ছিলোনা ওয়াকি-টকির মতো কোন প্রযুক্তি। তাই নির্ভরযোগ্য ও অল্পসময়ে বার্তা প্রেরণের একমাত্র ভরসা ছিল কবুতর। তাছাড়া দুর্গম, বরফ আচ্ছাদিত ও পাহাড়ী এলাকায় বার্তা পাঠানোর জন্য কবুতরের বিকল্প কিছু ছিলোনা। একমাত্র উপায় ছিল কবুতর। যুদ্ধ চলাকালীন কবুতরগুলো চিঠি, ঔষধ এমনকি বোমাও বহন করত । এ কবুতরগুলো ছিলো সেনাবাহিনী কর্তৃক বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, একেক কবুতর একেক কাজে ব্যবহৃত হতো। মজার বিষয় হলো কবুতরগুলির সেনাবাহিনীর মত কর্ণেল , কমান্ডো , ক্যাপ্টেন , মার্শাল প্রভৃতি Rankও ছিল। আর এদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নামতো ছিলোই।

যেমন: The_Mocker, GI_Joe, Kaiser, Cher_Ami, Gustav, William_Of_Orange ইত্যাদি। The_Mocker নামের কবুতরটি যুদ্ধে আহত হওয়ার আগ পর্যন্ত মোট ৫২ টি মিশন সম্পন্ন করেছিল। যুদ্ধ শেষে সীকৃতি স্বরুপ The_Mocker ও তার সাথের ৩২ টি কবুতরকে Commando উপাধি ও Dickin মেডেল দেওয়া হয়েছিল । Cher_Ami নামের কবুতরটি বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন একবার ২০০ জন সেনার জীবন রক্ষা করেছিল। সেনা সদস্যরা দুর্গম বরফাচ্ছন্ন এলাকায় পথ ভুল করে শত্রুদের ক্যাম্পের খুব কাছে চলে গিয়েছিল। যখন দিক নির্দেশনা নিয়ে তাদের খটকা লাগে , বরফাচ্ছন্ন এলাকায় সূর্য এমনিতেই দেখা যায় না। তখন তারা তাদের সাথে থাকা কবুতরটি ছেড়ে দেয় , কবুতরটি নিজ ক্যাম্পের দিকে উড়ে যায় এবং তাকে অনুসরন করে সেনা সদস্যরা নিজেদের ক্যাম্পে ফিরে আসে। ফিরে এসে মানচিত্র নিয়ে তারা ফিরে আসার দূরত্ব ও কোণ পরিমাপ করে বুঝতে পারে, শত্রু ক্যাম্পর খুব নিকটে তারা পথ ভুল করে চলে গিয়েছিল। তাদের সকলের মৃত্যু একেবারে নিশ্চিত ছিল। এরপর একটি মিশনে Cher Ami কবুতরটি মারাত্মক আহত হয়, সে একটি পা ও একটি চোখ হারিয়েও ক্যাম্পে ফিরে আসে। যুদ্ধ শেষ হয়। সরকার এই সাহসী কবুতরগুলোকে ‘ Commando ‘ উপাধি দেয় এবং সম্মান স্বরূপ Dickin মেডেল দেওয়া হয়। শুধু কবুতর নয়, সেসময় আরো বেশকিছু পোষা প্রানীও এই পুরস্কার অর্জন করে। পরবর্তীততে ১৯১৯ সালের ১৩ ই জুন Cher Ami নামের কবুতরটি মারা যায়। Cher Ami মারা যাওয়ার ৮৯ বছর পর আমেরিকার new_York_Bird_Club এর প্রতিষ্ঠাতা Anna Dove New_York_Times পত্রিকার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপি পোষা পাখি হিসেবে কবুতরের ব্যপক প্রসার ও Cher_Ami র মহান কৃতিত্বের জন্য ১৩ ই জুন কে বিশ্ব_কবুতর_দিবস হিসেবে পালনের জন্য দাবি পেশ করেন। সেসময় তার দাবি সকলেই গ্রহন করে নেয়। প্রথমদিকে অল্প পরিসরে পালন হয় কবুতর দিবস। সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য দেশের কবুতরপ্রেমীরা ১৩ ই জুনকে কবুতর_দিবস রূপে পালনে আগ্রহী হয়ে উঠে। শুরু হয় বিশ্বব্যাপী কবুতর_দিবস পালন। এভাবেই বিশ্ববাসী ১৩ ই জুন কবুতর দিবস পালন করে আসছে । বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশে ১৩ ই জুন কবুতর দিবস পালনকে কেন্দ্র করে এ দিনটি কবুতরপ্রেমীদের সবার স্বপ্ন পালনের দিন হয়ে উঠেছে।

বিরত

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপানার নাম লিখুন