জাতীয় বাজেটের উপর চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের প্রতিক্রিয়া

0
52

স্টাফ রিপোর্টার : ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত দেশের ৪৮ তম জাতীয় বাজেট মহান জাতীয় সংসদে পেশ করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনা পর্ষদ। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় চেম্বার সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম বলেন, মাননীয় অর্থমন্ত্রী প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করেছেন এ বাজেট। যাকে বলা যায় স্মার্ট বাজেট। তবে স্মার্ট বাজেট প্রণয়ন কোনো বড় কথা নয়, এর বাস্তবায়নই হচ্ছে বড় কাজ। অর্থমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার যে বাজেট ঘোষণা করেছেন, তা কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং, তবে বাস্তবায়ন সম্ভব। নতুন বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগলোকে সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এবারের বাজেট শুধু এক বছরের জন্য নয়, তৈরি করা হয়েছে ২০৪১ সালকে টার্গেট করে। বাজেটে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে জিডিপি ৮.২ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সকলের প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন সম্ভব। চাঁদপুর চেম্বার মনেকরে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে কিছু ক্ষেত্র ছাড়া অনেকাংশেই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সমুন্নত হয়েছে। বলা যায় এ বাজেট ব্যবসা বান্ধব।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে চার স্তর বিশিষ্ট (৫%, ৭.৫%, ১০% ও ১৫%) নতুন ভ্যাট আইন-২০১২ কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শুধুমাত্র ১৫% হারে ভ্যাট প্রদানকারীদের ক্ষেত্রে রেয়াত সুবিধার কথা বলা হয়েছে, যা অন্য স্তর তিনটিতে নেই। এতে করে পণ্য ও সেবার খরচ বাড়বে। চেম্বার মনেকরে সকল স্তরেই রেয়াত সুবিধা থাকা বাঞ্চনীয় এবং নতুন ভ্যাট আইন-২০১২ কার্যকরে যেন ব্যবসায়িক কার্যক্রম জটিলতার মুখে না পড়ে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ দৃষ্টি রাখবেন। বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা, মন্দ ঋণখেলাপির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির আকারে কম রাজস্ব আদায়। এসব আমাদের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগলোকে দুরবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ব্যাংক কমিশন গঠন করা যেতে পারে। সুতরাং, বিষয়গুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনায় নেওয়া সরকারের জন্য মঙ্গলজনক।

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ এবং গর্বিত সন্তান। এ বাজেটে তাঁদের জন্য সম্মানী ভাতা ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করে সরকার তাঁদের প্রতি বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে। যা খুবই প্রশংসনীয়। প্রস্তাবিত বাজেটে এবারও সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাই রাখা হয়েছে, যা গত অর্থ বছরের সমান। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে এ সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্মার্টফোন অন্যতম একটি ডিভাইস। প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্টফোনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হযেছে। এতে বেড়ে যাবে স্মাট ফোনের দাম। ফলে তথ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষে বলা যায়, এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য। তাই এরূপ একটি স্মার্ট বাজেট ঘোষণার জন্য তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল-কে আবারো চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করেন।

বিরত

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপানার নাম লিখুন